অস্ট্রেলিয়ার পর এবার নিউজিল্যান্ডেও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। আজ সোমবার পার্লামেন্টে এ সম্পর্কিত একটি বিল আনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। পাশাপাশি তিনি জানান, এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের বিশ্বব্যাপী আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল নিউজিল্যান্ড। উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫) ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়াতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে প্রস্তাবিত এই বিলে শিশুদের বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। বয়স নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অ্যাকাউন্টসমূহের তথ্য, ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারবে প্ল্যাটফর্মগুলো।
এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, 'নিউজিল্যান্ডের পুরো একটি প্রজন্মের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তিকর প্রযুক্তি এবং এমন কিছু মানসিক চাপের মুখোমুখি করছে, যার জন্য তারা প্রস্তুত নয়। এটি তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম এবং লেখাপড়াকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।'
তবে বিলটি পার্লামেন্টে শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শরিক দল 'নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট' ইতোমধ্যেই বিলটির বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট দলের নেতা উইনস্টন পিটার্স সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, 'প্রস্তাবিত এই আইন এবং এটি অনুসরণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।'
উদাহরণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ করে পিটার্স বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় জারি করা আইনটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব মূলত অভিভাবকদের।'
বিতর্কের জবাবে প্রধানমন্ত্রী লাক্সন স্বীকার করেন যে, এমন একটি আইন বাস্তবায়ন পুরোপুরি সহজ বা নিখুঁত হবে না। তিনি জানান, শতভাগ শিশুকে হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে না এবং কেউ কেউ ফাঁকফোকর বের করবেই। তবে শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে এই চেষ্টাটুকু করা অত্যন্ত জরুরি।



