জয়টা বড্ড প্রয়োজন ছিল শ্রীলঙ্কার। বিশ্বকাপের একমাত্র দল হিসেবে জয়হীন থাকতে কার-ই বা ভালো লাগে?
আসলেই তাই হয়েছিল। যে শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন নিয়ে ভারত এসেছে, নেদারল্যান্ডসের মতো দল পর্যন্ত যেখানে অন্তত একটা ম্যাচ জিতেছে, লঙ্কানদের জয়ের খাতাটা শূন্যই পড়েছিল। হয়তো আজকেও সে খাতার প্রথম পৃষ্ঠা ভরত না। হয়তো আজকেও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শ্রীলঙ্কাকেও চমকে দিত ডাচরা।
কিন্তু তা হয়নি। তা হয়নি সাদিরা সামারাবিক্রমার কারণেই। ঠাণ্ডা মাথায় যেভাবে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছালেন, তাতে যেকোনো ক্রিকেটারই এই পাঠ নিতে পারেন – যে ধীরগতির উইকেটে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে সফলভাবে রান তাড়া করা যায়। শ্রীলঙ্কা যে আজ ম্যাচ জিতল, তা তো সামারাবিক্রমার ১০৭ বলে অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংসটার কারণেই।
এই ইনিংস দেখে দুজন মানুষ সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন। এক – সামারাবিক্রমার বাবা রোশান সামারাবিক্রমা, দুই – সাবেক লঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে। গত এক সপ্তাহ ধরে জয়াবর্ধনে নাকি সামারাবিক্রমার ব্যাটিং নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ওদিকে রোশান সামারাবিক্রমা সাবেকি ধাঁচের মানুষ। আধুনিক ক্রিকেটের স্কুপ শট, রাম্প শট – এগুলো পছন্দ করেন না মোটেও। কেতাবি ঢংয়ে ধীরস্থির মস্তিষ্কে খেলা ইনিংস দেখেই শান্তি পান তিনি – জানিয়েছিলেন খোদ সাদিরা সামারাবিক্রমাই।
আজ সাদিরা সামারাবিক্রমার এই ইনিংস দেখে নিঃসন্দেহে বাবা ও ‘আইডল’ দুজনের বুকই গর্বে ফুলে উঠবে, নিশ্চিত!



