তখন বাসায় বসে থাকারই কথা। ঘোর করোনাকাল তখন, চলছে লকডাউন। কিন্তু ফন মিকেরেনের বসে থাকার উপায় ছিল না। দুটো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার ইচ্ছা, আর ক্রিকেটের প্রতি অদম্য ভালোবাসার জোরে খেটে মরতেন দিনভর। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দল সমারসেটের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে মাত্র, কেউ তাঁকে আর দল ভেড়ায়নি। কাজ নেই কর্ম নেই – টিকে তো থাকতে হবে?
বেঁচে থাকার তাড়নায় খাবার ডেলিভারি করার প্রতিষ্ঠান ‘উবার ইটস’-এ নাম লেখান। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিয়ে যা কামাই করতেন, সেটা দিয়েই চলত তাঁর দিন। ক্রিকেটে আদৌ ভবিষ্যৎ আছে কি না, নিশ্চিত ছিলেন না। তবে খেলাটার প্রতি ভালোবাসার জোর ছিলই, যে কারণে বাড়তি সময়টা ব্যয় করতেন নিজেকে ফিট রাখার জন্য, ক্রিকেটীয় দক্ষতায় উন্নতি আনার জন্য। বলা হচ্ছে ডাচ পেসার পল ফন মিকেরেনের কথা। গত রাতে বাংলাদেশকে হারানোর পথে যিনি হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
শান্ত, সাকিব, মুশফিককে আউট করে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের শিরদাঁড়া নিজেই ভেঙেছেন, পরে তাসকিনকে আউট করে শেষ করেছে বাংলাদেশের লড়াই করার শেষ সম্বলটুকুও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কয়েকদিন আগে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়েও এইডেন মার্করামকে আউট করেছিলেন, যে মার্করাম ঠিক আগের ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঝড় তুলে বোলারদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন।
কলকাতায় ঝড় উঠেছিল গত রাতেও। ফন মিকেরেনদের কমলা-ঝড়!



