প্রথম চার ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু নিউজিল্যান্ডের। ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু, এরপর নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছে দলটি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম থমকাতে হয়েছ তাদের।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবার ফর্ম ফিরে পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। প্রায় চার শ ছোঁয়া লক্ষ্যটাও নাগালে ছিল দলটির। কিন্ত গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সে স্বস্তি উবে গেছে তাদের। ১৯০ রানে হেরেছে নিউজিল্যান্ড।
এত বড় হারের দায় এককভাবে কারও নয়। এমনিতেই চোট সমস্যায় ভুগছে নিউজিল্যান্ড। মূল অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন চোটে পড়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে অধিনায়কত্ব করা লকি ফার্গুসন চোটে। চোটে পড়েছেন ব্যাটসম্যান মার্ক চ্যাপম্যানও।
এর মধ্যেই গতকাল ম্যাচের মধ্যে পেসার ম্যাট হেনরি হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ায় মাঠ ছেড়েছেন। জিমি নিশামও ব্যাথা পেয়েছিলেন। কিন্তু নামানোর মতো বদলি ফিল্ডার না থাকায় মাঠেই ছিলেন নিশাম। ব্যাথা পাওয়া হাত নিয়েই বোলিং করেছেন।
এর মাঝেও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথামের ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণ আফ্রিকা রান তাড়া করতে চায় না জেনেও তাদের আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছেন। এরপর হেনরি আর ফিরতে পারবেন না জানা ছিল তাঁর। ফলে স্লগ ওভারে বোলার সংকট হতো। ওদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ ওভারেই বেশি ভয়ংকর।
এরপরও ৪০ ওভারের আগেই ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি ও মিচেল স্যান্টনারদের বেশিরভাগ ওভার শেষ করে ফেলেছেন ল্যাথাম। স্লগ ওভারে জিমি নিশাম ও গ্লেন ফিলিপসের ওপর আস্থা রেখেছেন। স্লগ ওভার স্পেশালিস্ট হলেও এবার বিশ্বকাপে শুরু থেকে দলে জায়গা পাননি নিশাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও দেদারসে রান দিয়েছিলেন নিশাম।
ওদিকে স্লগ ওভারে ১২-এর ওপর রানরেটে রান করা ক্লাসেন, ডুসেন, মিলারদের সামনে খন্ডকালীন অফস্পিনার ফিলিপসকে বোলিং করানো বোকামি। নিশাম ও ফিলিপসকে ৪০ ওভারের আগেই বল করিয়ে বোলার ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে নেওয়া উচিত ছিল অধিনায়কের।
স্লগওভারে নিশাম ৩ ওভারে ৪৮ রান দিয়েছেন। একমাত্র ওভারে ফিলিপস দিয়েছেন ১৮ রান। ওদিকে স্যান্টনার ২ ওভারে দিয়েছেন ১০ রান। তাঁর ও বোল্টের বলেই যা একটু অস্বস্তিতে ছিলেন মিলাররা।
ব্যাটিংয়েও ব্যর্থ ল্যাথাম। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে রান পাওয়া ল্যাথাম এরপর থেকেই ফর্মে নেই। গতকাল ৩৫৮ রানের লক্ষ্যে যখন নেমেছেন, তখন লক্ষ্য আরও কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সে পরিস্থিতিতে দলকে আরও বড় বিপদে রেখে গেছেন। ১৫ বলে মাত্র ৪ রান করে ফিরেছেন।
হঠাৎ করেই সেমিফাইনালে না যাওয়ার শঙ্কায় আছে নিউজিল্যান্ড। আগামী ম্যাচে পাকিস্তানকে না হারালে মহা বিপদে পড়ে যাবে তারা। অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন সে ম্যাচে ফিরতে পারবেন কিনা, তা বলা যাচ্ছে না। এমন অবস্থ্যা ল্যাথামের ফর্ম নিউজিল্যান্ডের জন্য শঙ্কার বিষয়।



