দক্ষিণ আফ্রিকা যেদিন থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছে, হয়তো সেদিন থেকেই ‘চোকার’ তকমাটা সঙ্গী হয়েছে তাদের। ক্রিকেটকে এই দলটা কতকিছু দিয়েছে, সেটা গুণে শেষ করা যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও গর্ব করে দেখানো মতো কোনো বড় শিরোপা নেই তাদের। প্রতিবার দারুণ আশা নিয়ে বিশ্বকাপে আসলেও এখন পর্যন্ত কোন বিশ্বকাপের মুখ দেখা হয়নি দলটির। বিশ্ব ক্রিকেটে শাসন করার মত ক্রিকেটার দিয়েও অধরা ট্রফিতে হাত ছোঁয়া হয়নি প্রোটিয়াদের। দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলার পরও এই হোঁচট খাওয়ার স্বভাবটাই ‘চোকার’ নাম দিয়েছে দলটাকে।
১৯৯২ সালের সেমিফাইনালে ১ বলে ২২ রানের ঘটনা, ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সেমিফাইনালে সেই ঐতিহাসিক পরাজয়, ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর মরকেলদের কান্না, গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা – হাতছোঁয়া নাগালে সাফল্য পেতে পেতেও হারানোর আক্ষেপ এই দলটার সঙ্গী হয়েছে আজীবন। ফলাফল? চোকার ডাকনাম। দক্ষিণ আফ্রিকার যেকোনো অধিনায়কের প্রথম ও প্রধান ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ থাকে এই ডাকনামটা গা থেকে ঝেড়ে ফেলার।
টেম্বা বাভুমাও ব্যতিক্রম নন। এবং আর দশজন প্রোটিয়া অধিনায়কের মতো তাঁর সংবাদ সম্মেলনেও এই চোকার-সংক্রান্ত প্রশ্ন চলেই আসে। আজ ভারতের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনসে মাঠে নামার আগের সংবাদ সম্মেলনেও তাই হলো। সে প্রসঙ্গ শুনে অবশ্য একটু অভিমানই করলেন বাভুমা।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবার বিশ্বকাপ জিতবে, না এবারও ‘চোক’ করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাভুমা ছিলেন সোজাসাপ্টা, ‘দেখুন, চোক করব কি না, আমি জানি না এই প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেওয়া যায়। আগামীকাল পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে আমরা হেরে যাচ্ছি, তাহলে আমার মনে হয় না চোক করার কারণে সেটা হবে। কই, ভারত হারলে বা হারার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তো বলেন না ভারত চোক করেছে!’



