একদিকে সময় লাগে কম, অন্যদিকে রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়ে বিনোদনের থালা থাকে পূর্ণ। বর্তমানে দর্শকেরা চার-ছক্কার যে ধুন্দুমার ব্যাটিং উপভোগ করতে চান, স্বল্পদৈর্ঘ্যের সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতেই শুধু এর পূর্ণতা মেলে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) প্রসঙ্গ। ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচেই গ্যালারীতে দর্শক স্বল্পতা দেখা গিয়েছে। অথচ আইপিএলের প্রায় সব ম্যাচেরই স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ থাকে দর্শকে। বিশ্বকাপে চোখ কপালে তোলা দুটি ইনিংসের জন্ম দেওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের কথাতেও স্পষ্ট ক্রিকেটারদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আইপিএল।
বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে যে কীর্তি গড়েছেন ম্যাক্সওয়েল, তাতে ইতিহাসে তার নাম জ্বলজ্বল করবে বহুদিন। ২৯২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৯১ রানেই ৭ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে একাই জয় এনে দিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। পায়ে ক্র্যাম্প করেছে, শরীর নাড়াতে পারছিলেন না। কয়েকবার তো মাঠে শুয়েও পড়ছিলেন ব্যথায়। তবুও হাল ছাড়েননি। তার হার না মানা ১২৮ বলে ২০১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসকে সর্বকালের অন্যতম সেরা মানছেন অনেকেই।
এর আগেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪০ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপ শেষে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়েছেন। সেই ম্যাক্সওয়েল আইপিএল নিয়ে যা বলেছেন, তাতে ভারতের দর্শকদের খুশি হওয়ার কথা। বিশেষ করে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু সমর্থকদের।
ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, পা খুলে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি আইপিএল খেলে যাবেন। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে খেলা এই অস্ট্রেলিয়ান বলেছেন, ‘সম্ভবত আইপিএলেই আমার ক্যারিয়ারের ইতি টানব। যতদিন হাঁটতে পারব, আমি আইপিএলে আছি।’
২০১২ সালে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলসের (বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালস) হয়ে প্রথম আইপিএলে নাম লিখিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। পরের বছর নিলামে সর্বোচ্চ দামে তাকে দলে টানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ম্যাক্সওয়েলই আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ১০ লাখ ডলারের ক্রিকেটার।
ম্যাক্সওয়েল তার আইপিএল ক্যারিয়ারে সেরা সময় কাটিয়েছেন ২০১৪ মৌসুমে। সেবার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের (বর্তমানে পাঞ্জাব কিংস) হয়ে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ৫৫২ রান। স্ট্রাইক রেট ১৮৭.৭৫!
কিন্তু পরের পাঁচ আইপিএলে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল। ২০২১ সালে তাঁকে কিনে নেয় বেঙ্গালুরু। নতুন ফ্রাঞ্চাইজিতে এসে আবার পুরোনো রূপে ফিরতে থাকেন তিনি। বেঙ্গালুরুতে তিন মৌসুমে ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ৫১৩, ৩০১ এবং ৪০০ রান। এসময় তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৮৩.৪৯, যা ২০১৪ সালের অবিশ্বাস্য মৌসুমের ম্যাক্সওয়েলকে মনে করিয়ে দেয়।
নিজের দিনে বোলারদের জন্য রীতিমতো আতঙ্কে পরিণত হওয়া ম্যাক্সওয়েলও মানেন, তাঁর এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আইপিএলের প্রভাব কতটা, ‘আইপিএলের জন্য আমার ক্যারিয়ার এই পর্যায়ে এসেছে। সেখানে বিভিন্ন কোচের অধীনে খেলা, আলাদা আলাদা দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে শেখা- আমার পুরো ক্যারিয়ারেই এই টুর্নামেন্টের অবদান অনস্বীকার্য।’
বেঙ্গালুরুতে এসে এবি ডি ভিলিয়ার্স, বিরাট কোহলির মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করেছে ম্যাক্সওয়েল। মাঠের বাইরেও তাদের থেকে শিখে নিয়েছেন অনেক কিছু, ‘এবি (ডি ভিলিয়ার্স) এবং বিরাটের (কোহলি) সঙ্গে দুই মাস সময় কাটানো কিংবা অন্যদের খেলা দেখার সময় তাদের সঙ্গে আলোচনা- এমন অভিজ্ঞতা অর্জন যে কোনো খেলোয়াড়ের কাছেই স্বপ্নের মতো।’
আগামী বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টের ঠিক আগে হবে আইপিএল। বিশ্বকাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আইপিএল সহযোগিতা করবে বলে মনে করেন ম্যাক্সওয়েল, ‘আশা করি অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আইপিএলে সুযোগ পাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে এখানকার (ভারতের) কন্ডিশন কিছুটা মিল রয়েছে। উইকেট রুক্ষ থাকবে এবং স্পিন বান্ধব হবে।’
আইপিএলের পরবর্তী আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর। সেখানে ২ কোটি রুপির ভিত্তিমূল্য ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সাত ক্রিকেটারের।



