তখনো ঘোষণাটা এই যে, স্টেডিয়ামের গেট খুলবে চারটায়। প্রতীক্ষার ফাইনাল তখনো ঘণ্টা তিনেকের দূরত্বে। কিন্তু বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও ফরচুন বরিশালের ফাইনাল নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কতটা বেশি, সেটা বিকেল তিনটার আগ থেকেই বুঝতে শুরু করল মিরপুর স্টেডিয়ামের গেটগুলো।
বিপিএলজুড়েই এবার এ দুটি দলকে মাঠে এসে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছেন দর্শকেরা, সেই দুই দলই যখন ফাইনালে, মাথার ওপরের জ্বলজ্বলে সূর্যকেও উপেক্ষা করে স্টেডিয়ামের গেটের সামনে দর্শকের ভিড়।
আর আগ্রহ যখন এত বেশি, শৃঙ্খলার যেখানে অভাব, সে তো অবৈধ ব্যবসার স্বর্গরাজ্য। মিরপুর স্টেডিয়ামের গেইটগুলোর বাইরেও তা-ই দেখা গেল। দর্শক আগ্রহ বেশি বলেই কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হলো দেদারসে। কয়েকজন দর্শকের কাছ থেকে জানা গেল, তাঁরা প্রায় তিনগুণ বেশি দাম দিয়ে কালোবাজারে টিকিট কিনেছেন। তবু তাঁদের সন্তুষ্টির কমতি নেই। ম্যাচ তো দেখবেন – এটাই সন্তুষ্টি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। কিন্তু স্টেডিয়াম এলাকায় এসে দেখেন টিকিট আগেই শেষ। কিন্তু তিনিও নাছোড়বান্দা, এতদূর থেকে এসে যে কোনো মূল্যে খেলা দেখবেনই! কুমিল্লার একনিষ্ঠ সমর্থক রফিকুল উপায়ান্তর না দেখে ব্ল্যাকারদের থেকেই কিনে নেন দুটি টিকিট। ৮০০ টাকার প্রতিটি টিকিট কিনেছেন ২০০০ টাকায়!
কেবল রফিকুল নন, লাইনে থাকা অনেকেই জানালেন, তারা প্রায় তিন-চারগুণ বেশি অর্থ খরচ করে টিকিট সংগ্রহ করেছেন ব্ল্যাকারদের কাছ থেকে। প্রিয় দলের শিরোপা উদ্যাপনের সাক্ষী হতে বেশি দামে টিকিট কিনেও আফসোস নেই অধিকাংশের। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা বরিশালের সমর্থক রাকিব বলে উঠলেন, ‘তামিমের হাতে শিরোপা দেখতে আসছি। কিন্তু একটা জমজমাট ফাইনাল চাই। তাহলে টাকা উসুল হবে।’
শুধু টিকিটে নয়, ফাইনাল উপলক্ষ্যে পুরো স্টেডিয়াম এলাকার সবকিছুর দামই যেন বেড়ে গেছে। স্টেডিয়ামের আশে পাশের ফুটপাথের ভ্রাম্যমাণ ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে আগে জার্সি বিক্রি হতো ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৮০ টাকা। কিন্তু আজ সেই একই জার্সি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা দরে। কোনো কোনো দোকানে তো ৫০০ টাকার নিচে কোনো কথাই নেই।
এত দাম সত্ত্বেও দর্শক জার্সি কিনছেন লাইন ধরে। দুই ফাইনালিস্টের জার্সির রং অনেকটা একই, লালচে। গেটের বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শকের গায়ে জার্সি দেখে মনে হলো এটা মিরপুর যেন এক টুকরো লাল সমুদ্র।
দর্শক যে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাঠে ঢোকেন, সেগুলোও পছন্দমতো বার্তা লিখে নিচ্ছেন অনেকে। একটা করে প্ল্যাকার্ড নিতে তাঁদের গুণতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। অথচ গ্রুপপর্বে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো কার্ড। আর প্ল্যাকার্ডের গায়ে যাঁরা লেখালিখি করেন, তাঁদের একজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আজই শেষ দিন। আজ একটু ব্যবসা না করলে কবে করব!’



