তারুবা টেস্টের তৃতীয় দিন। পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে তখন ৩ উইকেটে ২৪৪ রান। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩১১ রানের বিপরীতে ভালোভাবেই জবাব দিচ্ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। উইকেটে সেট ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরিয়ান শান মাসুদ, হাতে ৭ উইকেট- সবকিছুই ছিল পাকিস্তানের পক্ষে।
কিন্তু এরপরই বল হাতে দৃশ্যপটে হাজির হলেন জাস্টিন গ্রিভস। তাতে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র, আর ভেঙে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং দুর্গ। আর নিজের নাম লিখে ফেললেন টেস্ট ক্রিকেটের এমন এক ইতিহাসে, যা করতে পারেননি আর কোনো বোলার।
তা গ্রিভস কী করেছেন? টানা ৫ ওভারে মেডেন ও উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি পেসার। টেস্টের পরিসংখ্যানের হিসাব রাখার পর থেকে গ্রিভসই প্রথম বোলার, টানা ৫ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ওভার মেডেন করার কীর্তি গড়লেন।
গ্রিভসের এমন অবিশ্বাস্য কীর্তিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও চলে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। হুরমুর করে ভেঙে পড়া পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৮২ রানে। প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের লিড পাওয়া উইন্ডিজ পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১২৬ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে। সবমিলিয়ে ১৫৫ রানে এগিয়ে আছে ক্যারিবীয়রা।
টেস্টে এই প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন গ্রিভস। তাতেই উঠে গেলেন ইতিহাসে। এর আগে টেস্টে টানা ৪টি উইকেট মেডেন নেওয়ার ঘটনা ছিল। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জোহানেসবার্গে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে এই কীর্তি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। গ্রিভস এবার ব্রডের সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন।
নিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের রহস্য জানাতে গিয়ে গ্রিভস বলেন, তিনি খুব সাধারণ পরিকল্পনা নিয়েই বোলিং করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ তাকে ভালো জায়গায় বল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, আর সেটিই কাজে দিয়েছে।
গ্রিভস বলেন, ‘আমি যখন বোলিংয়ে যাই, অধিনায়ক রোস্টন চেজ শুধু বলেছিলেন— তোমার পরিকল্পনায় ধারাবাহিক থাকো এবং দলের জন্য কিছু উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বল একটু নড়াচড়া করছিল এবং আমি তার ফল পেয়েছি। যখনই আমার হাতে বল দেওয়া হয়, দল আমার কাছ থেকে একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের ভূমিকা আশা করে। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে বের করে আনার চেষ্টা করি। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নিতে পেরে আমি খুবই খুশি। তবে ম্যাচে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে।’



