ক্রাইস্টচার্চের একজন ক্রীড়া পরিচালক মিথ্যা নথি তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ক্রীড়া সামগ্রীর জন্য নেওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অনুদান চুরি করেছেন। মার্ক চিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন ইনডোর স্পোর্টস সেন্টার হর্নবিকে ব্যবহার করে অনুদান পাওয়ার জন্য ২৬টি মিথ্যা নথি তৈরি করেছিলেন, যে অনুদান পরে তিনি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন।
৫৯ বছর বয়সী এই সংগঠক মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চ জেলা আদালতে হাজির হয়ে জালিয়াতির ২৬টি, বিশেষ ক্ষমতাধর ব্যক্তির দ্বারা ১১টি চুরি এবং নথির অসাধু ব্যবহারের দুটি অভিযোগে দায় স্বীকার করেছেন৷
চিনি হর্নবির অ্যাকশন ইনডোর স্পোর্টস সেন্টারের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
চিনিত নিউজিল্যান্ড ইনডোর স্পোর্টস ইনক (এনজেডআইএস) এবং সাউদার্ন ইনডোর স্পোর্টস ইনক (এসআইএস) এর মতো একাধিক ক্রীড়া পরিচালনা সংস্থার বোর্ডেও সদস্যপদ আছে। এর বাইরে তিনি বিভিন্ন খেলাধুলা এবং ক্রিকেট ক্লাবের সাথে জড়িত ছিলেন যেগুলো সবাই এয়ার রেসকিউ সার্ভিস (এআরএস) থেকে অনুদান পেয়েছে।
চিনি রিকারটনে রবির স্পোর্টস বারের ম্যানেজার এবং সেখানে জুয়ার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। বারটি জ্যাকসি হোল্ডিংস লিমিটেড (জেএইচএল) নামে একটি কোম্পানির মালিকানাধীন, চিনি যার অন্যতম পরিচালক।
অ্যাকশন ইনডোর স্পোর্টস সেন্টারের একজন নিয়োগকর্তা হিসেবে, চিনি খেলাধুলার সামগ্রী কেনার জন্য বা বিভিন্ন টুর্নামেন্টের জন্য এন্ট্রি ফি প্রদানের জন্য অনুদানের আবেদন করতেন, কিন্তু এই আবেদনপত্রগুলোতে তাঁর নাম কখনো দেখা যায়নি।
এসব অনুদান প্রায়ই ইনডোর টুর্নামেন্টের ক্রিকেট বল, নেটবল ইউনিফর্ম এবং বোলিং বলের জন্য নেওয়া হতো। এভাবে প্রায় ২৬ হাজার ডলার নেওয়া হয়েছিল।
একবার অনুদান মিললেই চিনি সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতেন। এরপর তিনি এআরএস-এ জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, অনুদান অনুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়ে তা প্রমাণ করতে মিথ্যা নথি, ব্যাংক রেকর্ড ও চালান বানাতেন এবং এবং তাঁর কর্মীদের তাতে স্বাক্ষর দিতে নির্দেশ দিতেন।
২০১৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মোট ২৬টি মিথ্যা নথি তৈরি করে এভাবে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন চিনি। ২০২২ সালের ২৯ জুন ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে হাজির হওয়ার পর তাঁর জালিয়াতি ধরা পড়ে। তাঁর কম্পিউটার অনুসন্ধান করে জানা যায়, মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৬১ ডলার ৬৪ সেন্ট জালিয়াতি করেছেন চিনি। বাংলাদেশি মূল্যমানে যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার একটু বেশি।
তাঁর আইনজীবী সাইমন শ্যামি বলেছেন যে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডোলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে, তবে ৩ হাজার ডলার কম পড়েছি, যা তাঁর সাজা হওয়ার আগেই পরিশোধ করা হবে। আগামী ১২ জুন এই মামলার রায় দেওয়া হবে।



