বিশ্বকাপের দল ঘোষণা হবে আর বিতর্ক হবে না – এমনটা সম্ভবত কোনো দেশেই হয় না। দেশটা যদি হয় ভারত আর টুর্নামেন্টটা যদি হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, তাহলে বিতর্ক আরও বেশিই হয় আর কী! আইপিএলের কারণে ভারতের টি-টোয়েন্টির পাইপলাইন এতটাই সমৃদ্ধ যে, তিনটি দলও নামিয়ে দিতে পারে ভারত। সে কারণে এই খেলোয়াড় কেন সুযোগ পেলেন, ওই খেলোয়াড় কেন পেলেন না – এই বিতর্কও বেশি হয়।
তবে এত বিভাজনের মধ্যে এবারের বিশ্বকাপের দলে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের সিংহভাগকে একই ছায়াতলে নিয়ে আসতে পেরেছেন হার্দিক পান্ডিয়া। তিনি কেন বিশ্বকাপের দলে, এ প্রশ্ন যে ভারতের বেশিরভাগ মানুষেরই!
সাবেক পেসার ইরফান পাঠানও গতকাল ঘোষিত ভারতের বিশ্বকাপ দলে পান্ডিয়াকে দেখে প্রশ্ন তুলেছেন, ভারত কি পান্ডিয়াকে অন্যদের চেয়ে বাড়তি সুবিধাই দিচ্ছে?
দলে খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমতার নীতি নেওয়ার গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্টার স্পোর্টসে ইরফান পাঠান বলেছেন, ‘খেলাটা তো টেনিস না, এটা দলীয় খেলা। এখানে সবাইকেই এক চোখে দেখতে হবে।’
এরপর তাঁর প্রশ্ন এল পান্ডিয়াকে নিয়ে। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে চোট পাওয়া পান্ডিয়া এবারের আইপিএল দিয়ে সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নেমে গেছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেননি। আইপিএলে তাঁর অধিনায়কত্ব এবং সেটি পাওয়ার ধরন, তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে কত প্রশ্ন-বিতর্কই তো আছে। তবু ভারতের বিশ্বকাপ দলে ঢুকে গেছেন পান্ডিয়া।
অথচ পান্ডিয়াকে যেখানে এত সুযোগ দিচ্ছে ভারতের বোর্ড (বিসিসিআই), সেখানে শ্রেয়াস আইয়ার-ইশান কিষাণের মতো ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা নিয়ে খড়গহস্ত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের চুক্তি থেকেই বাদ দিয়েছে ওই দুজনকে। যদিও পান্ডিয়ার পক্ষে যুক্তি, পান্ডিয়া টি-টোয়েন্টির জন্যই প্রস্তুত হচ্ছেন, তাঁর তাই রঞ্জিতে খেলার বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিষাণ ও আইয়ার টেস্ট আর ওয়ানডেতেও ছিলেন।
কিন্তু পান্ডিয়ার ক্ষেত্রে বোর্ডের এমন দুচোখা নীতির সমালোচনা করে পাঠান বলেছেন, ‘ও (পান্ডিয়া) যখন চোটে পড়ল, অনেকেই তো চোটে পড়ে…তারা তো চোট থেকে ফেরার পর যথাযথ প্ল্যানিং করা হয়, ওদের ম্যাচ খেলতে হয়, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে হয়। কিন্তু এই একজন আছেন যিনি কিনা এসব কিছু না করেই (ভারতীয় দলে) ফিরে এসেছেন!’
এতে দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বোঝাতে পাঠান বলেছেন, ‘যেহেতু দলের অন্য সবারই চোখে এই ব্যাপারটা পড়ছে… সবাই যখন দেখে একজন বাকিদের চেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন, সেটা দলের ভেতরের পরিবেশের জন্য খুব একটা ভালো কিছু নিয়ে আসে না।’



