পরপর দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা পাকিস্তানের পিঠ ঠেকে গিয়েছিল দেয়ালে। চারদিক থেকে ধেয়ে আসছিল সমালোচনার ঝড়। সুপার এইটের পথটাও ক্ষীণ হয়ে গেছে। পরের রাউন্ডে ওঠাটাও আর নিজেদের হাতে নেই বাবর আজমদের। পাকিস্তান করণীয় ছিল একটাই, নিজেদের বাকি থাকা দুই ম্যাচ জিতে অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকা।
গতকাল নিউইয়র্কে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই করেছে পাকিস্তান। নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করা কানাডাকে ১০৭ রানেই আটকে দিয়েছে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানের অনবদ্য ৫৩ রানে ১৫ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে স্বস্তির জয় পেয়েছে বাবর আজমের দল।
এ ম্যাচ জেতায় ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে উঠে সুপার এইটের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখল পাকিস্তান। দুইয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে গতকাল ১৩.৫ ওভারের মধ্যেই জিততে হত পাকিস্তানকে। কিন্তু বাবর-রিজওয়ানদের ওয়ানডে সুলভ ব্যাটিংয়ে সেটা সম্ভব হয়নি। তবুও এ জয়ের পর পাকিস্তানের নেট রান রেট -০.১৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ০.১৯১। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রানরেট ০.৬২৬। মোনাঙ্ক প্যাটেলরা অবশ্য একটা ম্যাচ কম খেলেছেন।
গতকাল নাসাউয়ে টস জিতে অনুমিতভাবে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসে কিছুটা ছন্দহীন মনে হলো শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। পাকিস্তানি পেসারকে টানা দুই চার মেরে ইনিংস শুরু করেন কানাডিয়ান ওপেনার অ্যারন জনসন।
কেবল ওই ওভারে নয়, ইনিংসের ১৪তম ওভারে নাসিম শাহর বলে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত সাবলীল ব্যাটিং করেছেন জনসন। এর আগে খেলেছেন ৪৪ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস। কানাডার ইনিংসের প্রায় অর্ধেক রানই এসেছে জনসনের ব্যাট থেকে। কানাডার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ রান করেছেন কালিম সানা।
পাকিস্তানের হয়ে ১৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। হারিস রউফও দুটি উইকেট পেয়েছেন। এছাড়া নাসিম শাহ ও শাহিন আফ্রিদি পেয়েছেন একটি করে উইকেট।
রান তাড়ায় রিজওয়ানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন ইফতেখার আহমেদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পাওয়া সাইম আইয়ুব। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১১ বলে ৬ রান করেই ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। এরপর বাবর আজমের সঙ্গে রিজওয়ানের ৬২ বলে ৬৩ রানের জুটিতে জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যায় পাকিস্তান।
বাবর ৩৩ বলে ৩৩ রান করে আউট হলেও রিজওয়ান পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। এরপর ফখর জামান নেমে ৬ বলে ৪ রানের বেশি করতে পারেননি। অন্যদিকে ৫৩ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন রিজওয়ান।
ব্যাট হাতে রিজওয়ান পাকিস্তানের জয়ের নেতৃত্ব দিলেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে মোহাম্মদ আমিরের হাতে।



