এক মাসে পুরো দুনিয়া কীভাবে বদলে গেল হার্দিক পান্ডিয়ার! এক মাস আগে ছিলেন খলনায়ক, আইপিএলে সবার দুয়ো শুনেছেন। এক মাস পর পান্ডিয়া বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে ভারতে ফেরার অপেক্ষায়।
এখন আর পান্ডিয়াকে দুয়ো দেওয়ার কথা মনেই হয়তো আসবে না কোনো ভারতীয়র। এরপরও যদি কারও আসে, তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রেখেছেন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান অম্বতি রাইডু। বলেছেন, এখন কারও সাহস থাকলে পান্ডিয়াকে দুয়ো দিয়ে দেখাক!
মাসখানেক আগে তাঁর চেয়ে খারাপ সময় খুব কম মানুষেরই কেটেছে। আইপিএলে গুজরাট টাইটানস থেকে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে ফেরা এবং ফিরেই রোহিত শর্মার জায়গায় তাঁর অধিনায়কত্ব পাওয়া কেউই ভালোভাবে নেননি। না মুম্বাইয়ের সমর্থক, না গুজরাটের সমর্থক, না রোহিতপ্রেমীরা।
আইপিএলে পান্ডিয়া ও মুম্বাইয়ের হতাশাজনক পারফরম্যান্স পান্ডিয়াকে আরও সমালোচনা আর হাসির পাত্র বানিয়ে তোলে। আইপিএলে প্রতি ম্যাচেই দুয়ো শুনতে হয়েছে পান্ডিয়াকে, তা ম্যাচটা মুম্বাইয়ের মাঠেই হোক আর প্রতিপক্ষের মাঠে।
মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে নাতাশা স্তানকোভিচের সঙ্গে পান্ডিয়ার বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জনও। মনে, ঘরে আর ক্রিকেট মাঠে – ত্রিমুখী ঝড় সামলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেমেছিলেন।
এক মাস পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পান্ডিয়া ভারতে ফিরছেন বিশ্বজয়ী হয়ে। বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দারুণ অবদান রেখেছেন, ফাইনালেও শেষদিকে বুমরা-আর্শদীপের পাশাপাশি তাঁর শেষ দুই ওভারই ম্যাচটা নাটকীয়ভাবে ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। ১৬তম ওভারে ভয়ংকর হয়ে ওঠা হাইনরিখ ক্লাসেনকে ফেরানোর পর শেষ ওভারে ডেভিড মিলারকে ফিরিয়ে ৬ বলে ১৬ রানের সমীকরণেও ভারতকে জিতিয়ে দেন পান্ডিয়া।
খলনায়কের ভূমিকা থেকে রাতারাতি নায়ক বনে যাওয়া পান্ডিয়াকে নিয়ে রাইডু ফাইনালের পর বলেছেন, ‘ওর জন্য খুব ভালো হলো। ও মানসিকভাবে এত শক্ত একজন মানুষ! এখন কারও সাহস থাকলে ওকে ভারতে দুয়ো দিয়ে দেখুক তো! মানে, যদি পারে আর কী! যদি কেউ সেই চেষ্টা করে, ভালোভাবে এর ফল টের পাবেন।’
রাজ্য দলে পান্ডিয়ার সঙ্গে একসময় খেলার অভিজ্ঞতা থেকে পান্ডিয়াকে প্রশংসায়ও ভাসিয়েছেন রাইডু, ‘ও দারুণ একজন মানুষ। ওর সঙ্গে রাজ্য দলে একসঙ্গে খেলেছি। ও দারুণ, খুব দারুণ একজন মানুষ। সে কারণেই এই ঝড় পেরিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছে ও। এমন একটা ঝড় যেটা কয়েক মাস ধরে চলেছে, এটা থেকে বের হয়ে আসতে পারা মানসিকভাবে শান্তির, এখন তো ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নই!’
ফাইনালে শেষ ওভারে ভারতের জয় নিশ্চিত করার পর পান্ডিয়ার আবেগের প্রসঙ্গ টেনে এনে রাইডু বলেছেন, ‘ও অনেকদিন ধরেই ভারতের ম্যাচ উইনার, ফাইনালেও সেটাই দেখিয়েছে। ক্লাসেনের ওই উইকেটটা নেওয়া, এরপর ভারতের পক্ষে ম্যাচের শেষটা টেনে দেওয়া…ওর গুরুত্ব তো ওখানেই বোঝা যায়। ওর দিকে তাকান, এই আবেগটা দেখুন!’



