হার্দিক পান্ডিয়া মুদ্রার দুই পিঠ দেখে ফেললেন। সর্বশেষ আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস সমর্থকদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। এমনকি ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে পান্ডিয়ার জায়গা পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছিলেন অনেকে। সেই পান্ডিয়া ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক।
পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন পান্ডিয়া। বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত যারা পান্ডিয়ার সমালোচনায় মুখর ছিলেন, তারাই বিশ্বকাপ শেষে পান্ডিয়াকে প্রশংসার বানে ভাসাচ্ছেন।
ট্রল-মিম থেকে প্রশংসার বাণ- পথটা মোটেও সহজ ছিল না পান্ডিয়ার জন্য। চারদিক থেকে তো সমালোচনার তীর ধেয়ে আসছিলই, এমনকি মাঠে খেলতে নামলেও স্টেডিয়ামে সমর্থকরা পান্ডিয়াকে দুয়ো দিচ্ছিলেন।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েননি পান্ডিয়া। বরং পারফর্ম দিয়ে সব প্রশ্নের জবাব দিতে চাচ্ছিলেন। পান্ডিয়ার বিশ্বাস ছিল, যারা গালি দিচ্ছে, তারাই একদিন তালি বাজাবে। জাতীয় দল ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস সতীর্থ ঈশান কিশাণকে সে সময় এমনটাই বলেছিলেন পান্ডিয়া। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া কিষাণের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
সাক্ষাৎকারে কিষাণ বলেছেন, ‘গত ছয় মাসে কী হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাঁকে নিয়ে অনেক কিছু লেখা ও বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনই মেজাজ হারাননি। আইপিএল বা আইপিএলের আগে বরোদায় প্রশিক্ষণের সময় আমি বেশিরভাগ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলাম। ওনার সঙ্গে কেন এমনটা হচ্ছে, এ নিয়ে কখনো অভিযোগ করেননি। উনি বেশ শান্ত ছিলেন। উনি কেবল নিজের খেলায় মন দিয়েছেন।’
সে সময়টাতে পান্ডিয়ার সংগ্রাম নিয়ে কিষাণ বলেছেন, ‘উনি যেখানেই গেছেন, লোকজন তাঁকে নিয়ে ট্রল করছিল। টসের সময় থেকে শুরু করে টিম বাসেরও পিছু নিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রায়ই মানুষ ভেঙে পড়েন। তবে হার্দিক ভেঙে পড়েননি। আমি তাঁকে সবসময় সেরাদের একজন মনে করি। কারণ যখন পুরো স্টেডিয়াম তাঁর নামে দুয়ো দিচ্ছিল, তখনও মুখে কোনোরকম রাগ প্রকাশ ছাড়াই নিজের কাজ করে যাচ্ছিলেন।’
পান্ডিয়া এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে শক্ত রেখেছেন, সে সম্পর্কে কিষাণ বলেছেন, ‘আমার মনে আছে, হার্দিক ভাই আইপিএলের সময় আমাকে একবার বলছিলেন, “যা আমাদের হাতে নেই, তা নিয়ে কী ভাবব। মানুষ কথা বলছে, যা বলছে, তা তো আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। যারা আজ আমার সমালোচনা করছে, তারা ভবিষ্যতে আমাকে নিয়ে উদযাপনে মাতবে। একে কেবল খেলাধুলার অংশ হিসেবেই নিতে হবে আমাকে।’
সমর্থকদের এমন আচরণে যে পান্ডিয়ার কোনো অভিযোগ ছিল না, সেটা উঠে আসে কিষাণের কথাতেই। ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আরও বলেছেন, ‘আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল, তিনি সবকিছু বিশ্বকাপের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন। আমি ওনার কয়েকটা কথা কখনই ভুলব না। তিনি বলেছিলেন, “একবার ছন্দে ফিরলেই, যারা আজ আমাকে গালি দিচ্ছে, তারাই একদিন আমার জন্য তালি দেবে।” সে সময় আমিও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাকে এমনটা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘মানুষকে বলতে দাও। আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং খেলায় ১০০ শতাংশ দিতে হবে।”’



