আকিফ জাভেদ যখন উইকেটে এলেন, তখন রংপুর রাইডার্সের স্কোরবোর্ডে ৮ উইকেটে ৫১ রান। উইকেটে এসে এক বল পরেই আরেক সতীর্থের বিদায় দেখলেন পাকিস্তানি পেসার। রংপুরের গুটিয়ে যাওয়া তখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল। আর সেটা হলে এবারের বিপিএলে সবচেয়ে কম সংগ্রহটাও দেখা যেত আজ।
কিন্তু কে জানত, ধ্বংসস্তূপ থেকেই পাল্টা আক্রমণ চালাবেন আকিফ জাভেদ। শেষ ব্যাটসম্যান নাহিদ রানাকে সঙ্গে নিয়ে ২৬ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়লেন। অবশ্য নাহিদ রানা (৯ বলে ০) শুধু এ জুটিতে সঙ্গই দিয়েছেন। যা করার সবটা একাই করেছেন এ পাকিস্তানি। তাতে শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ রানে থামলেন জাভেদ। তাতে রংপুর রাইডার্স পায় ৮৫ রানের সংগ্রহ। ইনিংস যেভাবে এগিয়েছে, তাতে এটাই অনেক বেশি মনে হচ্ছে।
এক বিদেশি জাভেদ তো সম্মান বাঁচিয়েছেন। বাকি তিন বিদেশির অবস্থা ছিল নাজেহাল। ৭ বলে ১, ৯ বলে ৭, ৯ বলে ৪- এই হচ্ছে বাকি তিন বিদেশি জেমস ভিনস, টিম ডেভিড ও আন্দ্রে রাসেলের আজকের ব্যাটিং পরিসংখ্যান। সব মিলিয়ে ২৫ বলে ১২ রান। মজার ব্যাপার, শুধু নকআউটের জন্য ঘটা করে এদের এনেছে রংপুর। শুধু এ তিনজন, বিপিএলের প্লে-অফ পর্বে প্রথম এলিমেনটরে আজ ভরাডুবি দেখেছে রংপুরের পুরো ব্যাটিং ইউনিট।
মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল দলটি। মাঝে নুরুল হাসান সোহান ২৫ বলে ২৩ আর শেষ দিকে আকিফ জাভেদ ৩২ রান করেছেন বলে ৮০ পেরোনো সংগ্রহ পেয়েছে রংপুর।
আজ টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে রংপুর। ইনিংসের মাত্র দ্বিতীয় বলেই রান আউট হয়েছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। পরের ওভারের শেষ বলে রংপুরের বিপদ বাড়িয়েছেন আরেক ওপেনার জেমস ভিনস। নাসুম আহমেদের দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট ইংলিশ ব্যাটসম্যান (১)।
৩ রানে দুই উইকেট নেই রংপুরের। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারও উইকেট শিকার করেন নাসুম। এবার দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন শেখ মেহেদীকে (১)। মিরাজের পরের ওভারের তৃতীয় বলে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন। তবে ওভারের পরের বলেই উইকেট উদ্যাপন করেন মিরাজ। এবার মিরাজের বলে লং অফে মোহাম্মদ নেওয়াজের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান (৪)।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাইফউদ্দনকেও হারায় রংপুর। হাসান মাহমুদের বলে এলবিডাব্লিউ হন সাইফউদ্দিন (৮)। ১৫ রানে ৫ উইকেট হারানো শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ড ১৯-এ নিয়ে যায়।
অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান আর টিম ডেভিড মিলে বিপর্যয় সামলানের চেষ্টা চালান। কিন্তু ইনিংসের নবম ওভারে নাসুম আহমেদকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ হন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান (৭)। আরেক বিদেশি আন্দ্রে রাসেলও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। দলকে ৫০ রানে রেখে ৯ বলে ৪ রান করে মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে বোল্ড হয়েছেন।
পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে পর পর দুই বলে রাকিবুল হাসান (১) নুরুল হাসান সোহান (২৩) এলবিডাব্লিউ করেন মিরাজ। রংপুরের স্কোরবোর্ডে তখন ৯ উইকেটে ৫২ রান। রংপুরের গুটিয়ে যাওয়া তখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই প্রতি আক্রমণ চালান আকিফ জাভেদ। খুলনার ফিল্ডারদের অপেক্ষা বাড়ান ইনিংসের ১৭ ওভার পর্যন্ত।



