ফাইনালে ওঠার ম্যাচে ইনিংসের শুরুতেই ছন্দপতন হয় খুলনা টাইগার্সের। ৪২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দ্রুত অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। কিন্তু ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটার শিমরন হেটমায়ার সব হিসেবই পাল্টে দিলেন। হেটমায়ারের ৬ চার, ৪ ছক্কায় ৩৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ডুবতে থাকা খুলনা টাইগার্স লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৩ রান তুলেছে খুলনা।
সুইংয়ের সামনে মেহেদি হাসান মিরাজের ভোগান্তির গল্প তো পুরোনো, আজ লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দোর সামনে ইনিংসের শুরুতেই নেমে গিয়ে সেই অস্বস্তিতেই পড়েছেন মিরাজ। বিনুরার সুইং ডেলিভারিগুলোতে ঠিকমতো ব্যাটে বলেই করতে পারছিলেন না। বিনুরার করা তৃতীয় ওভারেই গুড লেন্থের বল মিড উইকেটে বড় শট খেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বোল্ড হয়ে যান খুলনার অধিনায়ক। ৬ বলে মাত্র ২ রান করে ফেরেন মিরাজ।
অধিনায়কের ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ান আলেক্স রসও। তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর চারটি বল দেখেশুনে খেলেছেন। তবে লঙ্কান পেসারের বল সাবধানে খেললেও চতুর্থ ওভারে আলিস আল ইসলামের স্পিনে আটকা পড়েন রস। ৬ বল খেলে রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া রস আলিসের বলে তাঁকেই ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।
দলীয় ১১ রানে ২ উইকেট হারানো খুলনা টাইগার্সের এরপর হাল ধরেন ফর্মে থাকা ওপেনার নাঈম শেখ। চতুর্থ ওভারে রস ফিরে গেলেও ছন্দে থাকা নাঈম নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলে দুটি বাউন্ডারি আদায় করে নেন। আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ার প্লেতে বড় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে খেলতে থাকেন নাঈম। নিজেদের উইকেট ধরে রেখে স্কোরবোর্ডে পাওয়ার প্লে শেষে তোলেন ৩০ রান।
তবে পাওয়ার প্লেতে ধীর গতির ব্যাটিং করা খুলনা মাঝ ওভারে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আরও চাপে পড়ে ওপেনার নাঈম শেখকে হারিয়ে। খালেদ আহমেদের করা ইনিংসের অষ্টম ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে অধিনায়ক মিরাজের মতোই বোল্ড হয়ে ফেরেন নাঈম। পুরো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নাঈম আজকের আগ পর্যন্ত ৪৯২ রান করে খুলনা টাইগার্সের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ালেও কোয়ালিফায়ারে মাত্র ১৯ রান করে ফিরেছেন।
দলীয় ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানো খুলনা ইনিংসের নবম ওভারে আফিফ হোসেনকেও হারায়। ধুঁকতে থাকা খুলনার হাল ধরার বদলে আরাফাত সানির স্পিনে মিড উইকেটে বড় শট খেলতে গিয়ে শামিম পাটওয়ারির কাছে ক্যাচ দিয়ে বসেন আফিফ। পুরো বিপিএলে বড় কিছু করতে ব্যর্থ হওয়া আফিফ আজও ছন্দহীন ছিলেন। ১৪ বলে মাত্র ৮ রান করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
দ্রুত আফিফ ফিরে গেলেও দলীয় ৪২ রানে ৪ উইকেট হারানো খুলনার হাল ধরেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও শিমরন হেটমায়ার।
মাঝ ওভারে চিটাগং কিংসের স্পিনারদের সামলে দেখেশুনে রান তুলতে থাকেন অঙ্কন-হেটমায়ার জুটি। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি পঞ্চাশ রান তোলে ৪৩ বল খেলে। ইনিংসের ১৬তম ওভার পর্যন্ত তা-ও দেখেশুনে খেলেছিলেন, এরপরই খোলস ছেড়ে বের হন দুজন।
খালেদের করা ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ছয় হাঁকিয়ে আগ্রাসী মেজাজের বার্তা দেন অঙ্কন। অপর প্রান্তে থাকা হেটমায়ারও যে বড় শট খেলার জন্য বসেছিলেন তাঁর প্রমাণ পাওয়া যায় সেই ওভারেই। খালেদের করা ওভারের শেষ দুই বলে দুটি ছয় হাঁকান ক্যারিবিয়ান তারকা। খালেদের সেই ওভার থেকে আসে মোট ২৩ রান।
এরপরের ওভারে শরীফুল ইসলাম প্রথম বলেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকা অঙ্কনকে ফেরান। মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩২ বলে ৪১ রান (১ চার, ৩ ছয়) করেন অঙ্কন।
অঙ্কন ফিরে গেলেও হেটমায়ার থেমে থাকেননি। শরীফুলকে সেই ওভারে দুবারের জন্য বাউন্ডারিছাড়া করেন হেটমায়ার। এরপর ১৯তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা। প্রথম চার বলে দুই চার দুই ছক্কায় নেন ২০ রান, তাতেই দেড় শ রানের ভিত পেয়ে যায় খুলনা।
ফার্নান্দোর পঞ্চম বলে হেটমায়ার ৩৩ বলে ৬৩ রান করে ফিরে গেলেও ইনিংসের শেষ ওভারে জেসন হোল্ডারের ৫ বলে ১২ রানের ক্যামিও ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানের সংগ্রহ পায় খুলনা। চিটাগংয়ের হয়ে ২টি উইকেট নেন ফার্নান্দো।



