ইডেন গার্ডেনসে গতকাল শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স আর লক্ষ্মৌ সুপার জায়ান্টস। আগে ব্যাটিং করে মিচেল মার্শের ৪৮ বলে ৮১ আর নিকোলাস পুরানের ৩৬ বলে ৮৭ রানের তাণ্ডবে ২৩৮ রান তুলেছিল লক্ষ্মৌ।
রান তাড়ায় কলকাতাও কম যায়নি। শুরুতে সুনীল নারিন (১৩ বলে ৩০ রান) ও আজিঙ্কা রাহানে (৩৫ বলে ৬১ রান) এবং শেষদিকে রিঙ্কু সিংয়ের (১৫ বলে ৩৮ রান) ঝড়ে জমে ওঠা ম্যাচে কলকাতা শেষ পর্যন্ত হেরে যায় ৪ রানে।
দর্শকদের ‘পয়সা উসুল’ এ ম্যাচেই বিব্রতকর এক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর। লক্ষ্মৌর ডানহাতি এ পেসার এক ওভারেই দিয়েছেন টানা ৫টি ওয়াইড। তাতে ওভার শেষ করতে ১১ বল লাগে ভারতী পেসারের। আর শার্দুলের নাম উঠে যায় রেকর্ড বইয়ে। আইপিএল ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি বলে ওভার শেষ করা বোলারের তালিকায় শেষ নাম এখন শার্দুলের।
আলোচিত এ ওভারটি কলকাতা ইনিংসের ১৩তম ওভারের ঘটনা। ওই ওভার করার আগে আরও দুটো ওভার বোলিং করেছেন শার্দুল। এর মধ্যে ব্যক্তিগত প্রথম ওভারে ১৫ রান দিলেও কোনো ওয়াইড দেননি। আর দ্বিতীয় ওভার করার সময় প্রথম ৪বল ঠিকঠাক করার পর টানা ৩ ওয়াইড দেন তিনি। পরে দুটো ঠিকঠাক ডেলিভারিতে ওই ওভারটা শেষ করেন।
কিন্তু ইনিংসের ১৩তম ওভারে বোলিং করতে এসে যেন লাইন লেংথই ভুলে গেলেন শার্দুল। প্রথম বলটা আউটসাইড ইয়র্কার করার চেষ্টা করেছিলেন বটে, কিন্তু সেটা ওয়াইড লাইনের বাইরে দিয়ে যায়। পরের চার ডেলিভারিতে প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সবমিলিয়ে ওভারের কোনো বল হওয়ার আগেই অফ সাইডে টানা ৫টি ওয়াইড দিয়ে বসেন শার্দুল।
অবশ্য পরে আর কোনো ওয়াইড ডেলিভারি করেননি ভারতীয় পেসার। ১১ বলের ওভারটি শেষ করেছেন রাহানেকে ফিরিয়ে। সেখানেই শেষ নয়। ইনিংসের ১৭তম ওভারে নিজের শেষ ওভারের প্রথম বলেই নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেলের উইকেটটাও।
শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৫২ রানে ২ উইকেট নিয়ে বোলিং কোটা শেষ করলেও বিব্রতকর রেকর্ড যা হওয়ার, সেটা ১৩তম ওভারেই হয়ে গেছে। ১১ বলের ওভারে শার্দুল একা নন, এর আগে মোহাম্মদ সিরাজ ও তুষার দেশপান্ডেও এ নজির গড়েছিলেন।
২০২৩ সালে লক্ষ্মৌর বিপক্ষে প্রথমবার ১১ বলে ওভার শেষ করেন চেন্নাই পেসার তুষার। একই মৌসুমে বেঙ্গালুরুর হয়ে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওভার শেষ করতে সিরাজের লেগেছিল ১১ বল।
তবে একটা জায়গায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন শার্দুল। ডানহাতি এ পেসারের মতো ওভারের প্রথম পাঁচ বলই ওয়াইড করার ‘কীর্তি’ নেই যে আর কারও!



