এশিয়া কাপের আগে ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতির সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগিয়েছেন শুধু অধিনায়ক লিটন দাস। সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ বড় রানের স্বপ্ন দেখালেও তা শেষ পর্যন্ত করতে পারেনি। নেদারল্যান্ডসের বোলারদের ওপর কেবল চড়াও হতে পেরেছেন লিটন। স্কোরবোর্ড দেখলেই তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। বৃষ্টির বাগড়ায় নির্ধারিত ২০ ওভার খেলা না হলেও ১৮.২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ৭৩ রান (৪৬ বল) এসেছে অধিনায়ক লিটনের ব্যাট থেকে।
অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সের দিনে বাকি ব্যাটসম্যানরা তেমন আশা জাগাতে পারেননি। যদিও শেষ দিকে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে সোহান-জাকের দুজনের ব্যাটে ২০ রানের ক্যামিও ইনিংসের দেখা মিলেছে।
১৯তম ওভারের দুই বল পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তবে বেরসিক বৃষ্টি-ই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর ম্যাচ পরিত্যক্তের ঘোষণা দেন আম্পায়াররা। ফলে ডাচদের ইনিংস আর মাঠে গড়ায়নি। ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে একাদশে ৫ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের আজ ইনিংস উদ্বোধন করেন অধিনায়ক লিটন দাস ও সাইফ হাসান। প্রথম ওভার থেকে আগ্রাসী মেজাজ দেখা যায় দুই ওপেনারের ব্যাটে। তবে সিলেটের গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উন্মাদনা বেড়ে যায় ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। স্পিনার ড্যানিয়েল ডুরামের করা সেই ওভারের ৬ বলের সব কটি বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করেন লিটন। যার মধ্যে ৩টি চার ও ১টি ছয়ের দেখা পান বাংলাদেশ অধিনায়ক, বাকি দুই বল থেকে এসেছে দুটি দুইয়ের মার। মোট ২২ রান আসে সেই ওভার থেকে।
আগ্রাসী লিটনের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ১২ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাইফ। কাইল ক্লেইন প্রথম বলে উইকেট পেলেও সেই ওভারে এক চার ও এক ছক্কায় ১৭ রান নেন লিটন।
চতুর্থ ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ রান পার করে বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলের পর কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টির বাগড়ায় খেলা বন্ধ হলেও তা ফের মাঠে গড়ায়। পাওয়ার প্লে শেষে ১ উইকেট ৬৭ রান তোলে বাংলাদেশ।
অষ্টম ওভারে ডুরামের বলে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে ২৭ বলে নিজের ফিফটি পূরণ করেন লিটন। একদিকে লিটন আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও অপর প্রান্তে থাকা তাওহীদ হৃদয় শুরু থেকে ছন্দহীন ছিলেন। ইনিংসের নবম ওভারে টিম প্রিঙ্গলের স্পিনে ১৪ বলে ৯ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়।
দলীয় ৭৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হৃদয় ফিরে গেলেও এক প্রান্ত থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং করে গেছেন লিটন। ১১তম ওভারে পল ফন মিকেরেনের বলে এক চার ও এক ছক্কায় দলীয় এক শ রান পার করেন লিটন।
তবে অপর প্রান্তে থাকা শামীম হোসেন লিটন দাসকে খুব ভালো সঙ্গ দিতে পারেননি। ১৪তম ওভার শেষে ২ উইকেটে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তখন ১২১ রান, ওয়ানডে স্টাইলে খেলা শামীমের নামের পাশে ১৮ বলে ২১ রান।
আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ১৫তম ওভারের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দাস। ক্লাইল ক্লেইনের বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন লিটন।
অধিনায়কের ফেরার ওভারে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন শামীম হোসেনও। ক্লেইনের করা শর্ট বলে পুল শট খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন শামীম(২১ রান)। দলীয় ১২২ রানে ৪ উইকেট হারালেও পঞ্চম উইকেটে ইনিংসের হাল ধরেন নুরুল হাসান সোহান ও জাকের আলী অনিক।
এই দুজনের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১৯ তম ওভারের দ্বিতীয় বল শেষে আম্পায়াররা বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে এর আগে পঞ্চম উইকেটে ২৩ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন সোহান-জাকের। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ১৮.২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১৬৪ রান। ২ ছক্কায় ১১ বলে ২২ রান করেছেন সোহান, ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ২০ রান করেছেন জাকের আলী।



