ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার আমির জাঙ্গু শেষ পর্যন্ত ২৩ বলে ৩৪ রান করেছেন। অথচ ইনিংসের ২২ বলের মধ্যে দুবার তাঁর ক্যাচ পড়েছে। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে একবার, স্লিপে ক্যাচ ধরা গেল না উইকেটকিপার আর প্রথম স্লিপের ফিল্ডারের ভুল বোঝাবুঝিতে। জাঙ্গুর রান তখন ৪ বলে ১, তিনি আউট হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম উইকেট পড়ত ২ রানে। এরপর চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে আবার মিড অফে জাঙ্গুর সহজ ক্যাচ ফেলে দিলেন বদলি ফিল্ডার হৃদয়। জাঙ্গুর রান তখন ১২ বলে ৯, উইকেটটা পড়লে উইন্ডিজের স্কোর হতো ১০ রানে ২ উইকেট।
ঠিক ৫০ রান করে আউট হওয়া, চতুর্থ উইকেটে ৪৬ বলে ৯১ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে সব হিসাব-নিকাশ থেকে বের করে দেওয়া দুই উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান রোস্টন চেইজ আর আকিম অগাস্টে জীবন পেয়েছেন একবার করে। নবম ওভারের শেষ বলে চেইজের ক্যাচটা একেবারে সহজ ছিল না, তবে থার্ডম্যানে শরীফুল সেটা ধরতে পারলে উইন্ডিজের স্কোর দাঁড়াত ৬৪/৪। ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এক্সট্রা কাভারে বদলি ফিল্ডার তানজিম সাকিব ক্যাচটা ধরতে পারলে অগাস্টের ইনিংস শেষ হয়ে যেত ১৭ বলে ২৭ রানে, উইকেটটা পড়লে উইন্ডিজের স্কোর দাঁড়াত ৯৯/৪। ক্যাচ দেওয়ার আগের বলে ছক্কা হাঁকানো অগাস্টে বেঁচে যাওয়ার পরের দুই বলে মেরেছেন আরও দুটি ছক্কা!
সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার পথে চট্টগ্রামে আজ তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ১৫১ রান যে হেসেখেলে ৫ উইকেট ও ১৯ বল হাতে রেখে পেরিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেটাতে বাংলাদেশের অবদান কোনো অংশে কী কম! ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোয়াইটওয়াশ করেছে, সে পথে নিজে থেকেই ডিটারজেন্ট ঢেলে সাহায্য করেছে বাংলাদেশ।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের হয়ে এক তানজিদ তামিমই যা রান করেছেন – ৬২ বলে ৮৯। কিছু রান পেয়েছেন সাইফ হাসান – ২২ বলে ২৩। এর বাইরে যেভাবে এক অঙ্কে আউট হলেন, তাতে মনে হতে পারে, সাইফ আর তামিমের কারণে ১১ ডিজিটের মোবাইল নাম্বার হয়নি বাংলাদেশের ইনিংস থেকে। শেষ পর্যন্ত ২০তম ওভারের শেষ বলে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ ১৫১ রান তুলতে পেরেছে।
জবাবে শুরুর চার ওভারের মধ্যে দুবার জাঙ্গুর ক্যাচ মিস করলেও তৃতীয় ওভারে আরেক ওপেনার অ্যালিক অ্যাথানাজের উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। শেখ মেহেদির বলে অ্যাথানাজে স্টাম্পড হওয়ার সময়ে উইন্ডিজের রান ৬/১। পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে ব্র্যান্ডন কিংকে যখন বোল্ড করলেন বাংলাদেশের হয়ে শেষ পর্যন্ত ইকোনমি ৫-এর নিচে রাখতে পারা একমাত্র বোলার নাসুম, উইন্ডিজের রান ৩৭। মাঝে আরেকবার জীবন পেলেও অষ্টম ওভারে জাঙ্গুও ফিরলেন, উইন্ডিজের রান তখনো ৫২।
কিন্তু চতুর্থ উইকেটে চেইজ আর অগাস্টে নেমেই পেটাতে শুরু করলেন। এর মধ্যে একবার করে জীবন পেলেন দুজন। নবম উইকেটে চেইজের ক্যাচটা ধরা গেলে উইন্ডিজ আরেকটু বিপদে পড়ত, কারণ এর কিছুক্ষণ আগেই আউট হয়েছিলেন জাঙ্গু। ১৩তম ওভারে অগাস্টের ক্যাচটা ধরতে পারলে অন্তত ওই ওভারে ২১ রান তো হতো না!
ওই দুই ক্যাচ মিসের আগে-পরে ঝড় তুলেছেন চেইজ আর অগাস্টে। শিশিরের প্রভাবেই কি না, বাংলাদেশের বোলারদের হাতে যেন কোনো অস্ত্র ছিল না! ৯ম থেকে ১৫তম – এই ৭ ওভারের মধ্যে শুধু ১১তম ওভারেই রানটা এক অঙ্কে ছিল, এই ৭ ওভারেই এসেছে উইন্ডিজ ইনিংসের প্রায় ৬০ শতাংশ রান (৮৮)। ১৫০-র আশপাশের লক্ষ্যে এরপর আর বাকি থাকে কী!



