গতকাল বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে আইসিসির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি উপস্থিত থাকবেন না বলে কয়েকদিন ধরেই ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। অবশ্য গত জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সভাতেও উপস্থিত ছিলেন না নাকভি। সে কারণেই ধারণা করা হচ্ছিল, গতকাল দুবাইয়ের সভাও এড়িয়ে যেতে পারেন পিসিবি প্রধান।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নাকভি ঠিকই গতকাল আইসিসির প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন। পরে অংশ নিয়েছেন সভায়। অনুমিতভাবে সভায় সর্বশেষ এশিয়া কাপের প্রসঙ্গ উঠেছে। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রায় দেড় মাস হয়ে গেলেও এখনো ট্রফি হাতে না পাওয়ায় গতকালের সভায় পিসিবি চেয়ারম্যানের নামে বিচার দিয়েছে ভারত।
ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ জানিয়েছে, গতকালের বৈঠকে এশিয়া কাপ প্রসঙ্গ উঠলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়নি। বরং পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণই ছিল। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়, এশিয়া কাপের ট্রফি এখনো নিজের কাছে রেখেছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নাকভি। ন্যায়সঙ্গতভাবে এ ট্রফিটি ভারত দল ও বিসিসিআইয়ের প্রাপ্য বলে উল্লেখ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আইসিসির এ সভায় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সচিব দেবজিত সাইকিয়া। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রফিটি অবিলম্বে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। ক্রিকবাজ উল্লেখ করেছে, এশিয়া কাপ সংক্রান্ত ইস্যুটির আলোচনা আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে ছিল না। বরং সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় প্রসঙ্গটি উঠেছিল।
অন্যান্য বোর্ড সদস্যরাও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি। প্রয়োজনে ইস্যুটি দ্রুত সমাধানের জন্য একটি প্যানেল গঠিত পারে বলে উল্লেখ করেছে ক্রিকবাজ। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সেটার প্রভাব দেখা যায় মাঠেও। এশিয়া কাপে তিনবারের মুখোমুখি দেখায় একবারও টসের সময় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আঘার সঙ্গে হাত মেলাননি ভারত অধিনায়ক সুরিয়াকুমার। ম্যাচ শেষে দুদলের খেলোয়াড়রাও করমর্দন করেনি।
এ নাটক চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত শিরোপা জেতার পর। চ্যাম্পিয়ন হলেও এসিসি সভাপতির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। অন্যদিকেও নাকভিও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছাড়াই উদযাপন করে দেশে ফেরেন সুরিয়াকুমার-শুভমান গিলরা।
ওদিকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া এশিয়া কাপের ট্রফি এমন জায়গায় রাখা হয়েছে, যেটি নাকভি ছাড়া কেউ জানেন না! এসিসি ও পিসিবি সভাপতি অবশ্য শর্ত দিয়েছেন, ট্রফি নিতে হলে তাঁর হাত থেকেই নিতে হবে এবং ভারত দলের কাউকে এসিসি সদর দপ্তর থেকে নিতে হবে। এ নিয়ে দুপক্ষের কথার লড়াই চললেও ট্রফি আর ভারতের হাতে যায়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আইসিসির সভায় তুলল সাইকিয়া।



