কলকাতা টেস্ট যেন ব্যাটসম্যানদের কড়া পরীক্ষা নিচ্ছে। ইডেন গার্ডেনসের উইকেটে টিকে থাকাই দায় হয়ে যাচ্ছে ভারত-সাউথ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দুদিনেই দুদলের ২৬ উইকেট পড়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুই ইনিংসে দুদলের কোনো ব্যাটসম্যানই ৪০ রান করতে পারেননি।
ভাগ্যিস টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে ফিফটি করে সে আক্ষেপ পূরণ করেছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা (৫৫*)। এরপরও দুদলের রানের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, ব্যাটসম্যানদের টিকে থাকতে কতটা বেগ পেতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার উইকেটকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন হারভাজান সিং। একজন স্পিনার হয়েও টেস্টে এমন উইকেট চান না তিনি। সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন, এ উইকেটে সাচিন টেন্ডুলকার-বিরাট কোহলির মতো ব্যাটিং কিংবদন্তিরাও টিকে থাকতে পারতেন না।
হারভাজান কেন এত রেগে, সেটা স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। আজ টেস্টের তৃতীয় দিনের সবে দ্বিতীয় সেশন চলে। এতেই দুদলের ৩৫ উইকেট নেই। প্রথম ইনিংসে সাউথ আফ্রিকা ১৫৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ভারত করেছিল ১৮৯ রান। ৩০ রানে পিছিয়ে থাকা প্রোটিয়ারা দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১৫৩ রানে। তাতে ভারতের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১২৪ রান।
এ অল্প রানটাই যেন পাহাড়সম হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের সামনে। প্রায় দুর্বোধ্য হয়ে ওঠা কলকাতার উইকেটে এ রান তাড়ায় ৬৪ রানেই ৫ উইকেট নেই ভারতের।
বোলিংদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া এমন উইকেট মানতে পারছেন না হারভাজান। গতকাল টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ৪৫ বছর বয়সী সাবেক এ অফস্পিনার বলেছেন, ‘মাত্র দুই দিনেই বোঝা যাচ্ছে, ম্যাচ কোন দিকে যাচ্ছে। তারা টেস্ট ক্রিকেটকে শেষ (রেস্ট ইন পিস) করে দিয়েছে দিয়েছে। আমার মনে হয় না টেস্ট ক্রিকেটের আর কোনও মূল্য আছে।’
গত জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে ইংলিশদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছে ভারত। হারভাজানের মতে, ইংল্যান্ডে যে ধরনের স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হয়েছে, সেটাতেই মূলত টেস্টের আসল মজা। এ প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক স্পিনার বলেছেন, ‘কয়েকদিন আগে ইংল্যান্ডে গিয়ে ভারত অসাধারণ খেলেছে, সবাই ওদের প্রশংসা করেছে। যে ধরনের উইকেটে ওরা খেলেছে, যেভাবে লড়াই করে জিতেছে, ওটাই আসলে টেস্ট ক্রিকেট, ওটাই টেস্টের আসল মজা।’
এরপর কলকাতার উইকেটের সমালোচনায় হারভাজান বলেছেন, ‘এই উইকেটটা এমন যে, আপনি বল ফেলবেন, আর সেটা ঘুরে অন্য দিকে চলে যাবে। ব্যাটসম্যানরা বুঝেই উঠতে পারবেন না, কী করতে হবে। এমনকি বিরাট কোহলি, সাচিন টেন্ডুলকারের মতো ব্যাটসম্যানও এখানে টিকে থাকতে পারবেন না। কারণ, কোনো বল এখানে নিচু হয়ে যাবে, কোনো বল হঠাৎ বাউন্স করবে। আবার কোনো বল অস্বাভাবিক টার্ন করে আপনার উইকেট নিয়ে নেবে। এখানে টেকনিকের কোনও ভূমিকা নেই- সবকিছু নির্ভর করছে উইকেটের উপর।’
জাতীয় দলের সাবেক এ স্পিনারের মতো, এ ধরনের উইকেট বানিয়ে টেস্ট ক্রিকেটটাকে তামাশা বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। হারভাজানের ভাষায়, এটা বহু বছর ধরেই হচ্ছে। আমি যখন এসব নিয়ে বলি, মানুষ আমাকে বলে, “কেন তুমি এসব নিয়ে কথা বল?” কিন্তু আমার মনে হয় না, কখনো এমন অপরিণত কন্ডিশন দেখেছি। বিষয়টা একদমই ঠিক পথে এগোচ্ছে না। এটা ভয়াবহ, একেবারে বাজে। তারা খেলাটাকেই হাস্যকর করে তুলছে।’



