এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। হংকংয়ের বিপক্ষে সে ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয় আদায় করেন আকবর আলীরা। হাবিবুর রহমান সোহানের ৩৫ বলে সেঞ্চুরিতে ভর করে ওই ম্যাচে হংকংয়ের ১৬৭ রান বাংলাদেশ পেরিয়ে গিয়েছিল ইনিংসের ৫৪ বল হাতে রেখে!
দুর্দান্ত এ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা পরের ম্যাচেও বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। এবার আকবর আলীরা উড়িয়ে দিয়েছেন আফগানিস্তান ‘এ’ দলকে। গতকাল সোমবার দোহায় আফগানদের ৭৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ইনিংসের ৩৯ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে বড় জয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলেন আকবর-সোহানরা।
দোহায় গতকাল টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আকবর আলী। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত যে যৌক্তিক ছিল, আফগান ইনিংসের শুরু থেকেই বুঝিয়ে দিতে থাকেন বাংলাদেশি বোলাররা।
ইনিংসের প্রথম ওভারে আফগান ওপেনার ইমরানকে (৪) ফেরান রিপন মণ্ডল। নিজের পরের ওভার করতে গিয়ে সেদিকউল্লাহ আতালকে ড্রেসিংরুমের পথ ধরান রিপন। বাংলাদেশি পেসারের একই ওভারে বিদায় নিয়েছেন আরেক ওপেনার নুরুল রহমানও (১)।
রিপন মণ্ডলের দেওয়া শুরুর এক ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি আফগানিস্তান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮০ রানের আগেই থামে আফগানদের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে রিপন মণ্ডল ১০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া রাকিবুল ৭ রানে ৩ উইকেট, মেহেরব ১৪ রানে ২ উইকেট ও আবদুল গাফ্ফার সাকলাইন ১৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন।
রান তাড়ায় ৫ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশও দুই ওপেনারকে হারিয়েছিল। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে দলকে ১৯ রানে রেখে বিদায় নেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সোহান (১০)। আর দলের রান ২৪ হতে একই পথ ধরেন জিসান (১০)।
পরপর দুই উইকেট হারালেও বাংলাদেশকে আর বিপদে পড়তে দেননি জাওয়াদ আবরার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তৃতীয় উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫৫ রানের জুটিতে জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। জাওয়াদ ২২ বলে ২৪ রানে ও অঙ্কন ৩০ বলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এ জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের সবার ওপরে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট করে নিয়ে পরের দুটি স্থানে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান।
বাংলাদেশ পরের ম্যাচটা খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ম্যাচটা যদি বাংলাদেশ হেরে যায়, তবে তিন ম্যাচ শেষে লঙ্কানদের পয়েন্টও বাংলাদেশের সমান ৪ হবে। এদিকে আফগানিস্তান হংকংকে হারালে আফগানদের পয়েন্ট হবে ৪। তখন আসবে রানরেটের হিসেব। সে হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই বড় জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের রানরেট +৪.০৭৯। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার রানরেট +১.৩৪১, আফগানিস্তানের -১.১৮২ এবং হংকংয়ের -৪.৬১৮।



