সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে একাদশ তিন পরিবর্তন বলে দিয়েছিল খানিকটা চাপে বাংলাদেশ। সেই চাপ আগে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে আরও বাড়িয়ে দেয় আয়ারল্যান্ড। প্রথম ৬ ওভারে ৭৫ রান তোলা আইরিশরা দুই শ রানের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু মাঝ ওভারে শেখ মেহেদীর স্পিনে তা আর করতে পারেনি সফরকারীরা। এই অফ স্পিনারের দুই ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট পল স্টার্লিংদের বড় সংগ্রহে ধাক্কা দেয়।
শেষ পর্যন্ত লরকান টাকারের ৩২ বলে ৪১ রানের ইনিংসে ১৭০ রানের সংগ্রহ পেয়েছে আয়ারল্যান্ড। প্রথম টি-টোয়েন্টি থেকে ভালো বোলিং পারফরম্যান্স দেখাতে পারলেও ম্যাচ জিততে হলে বাংলাদেশকে রেকর্ড গড়তে হবে। কারণ চট্টগ্রামের এই মাঠে ১৫৭ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের কীর্তি নেই লিটন দাসদের।
আগে ব্যাট করতে নেমে রীতিমত ঝড় তুলেছেন আয়ারল্যান্ডের দুই ওপেনার পল স্টার্লিং ও টিম ট্যাক্টর। পাওয়ার প্লের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই দলীয় পঞ্চাশ রান পূরণ করে আয়ারল্যান্ড। একাদশে তিন পরিবর্তন করা বাংলাদেশকে অবশ্য পঞ্চম ওভারে খানিকটা স্বস্তি এনে দেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব।
আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং সাকিবের স্লো ডেলিভারি লেগ সাইডে স্লগ করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে সাইফ হাসানের কাছে ক্যাচ দিয়ে বসেন। ১৪ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ২৯ রান করে ফেরেন স্টার্লিং।
পঞ্চম ওভারে উইকেট হারালেও রানের গতি থামেনি আয়ারল্যান্ডের। পাওয়ার প্লে শেষে টিম ট্যাক্টরের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১ উইকেট ৭৫ রান তোলে সফরকারীরা। এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এছাড়া টি–টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে আয়ারল্যান্ডের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।
শুরুতেই বড় সংগ্রহের ভিত পাওয়া আইরিশরা যখন দুই শ রানের স্বপ্ন দেখছেন তখনই মাঝ ওভারে তাদের বড় ধাক্কা দেন স্পিনার শেখ মেহেদী। নবম ওভারে দুই ভাই হ্যারি ট্যাক্টর ও টিম ট্যাক্টরকে ফেরান মেহেদী। ওভারের শুরুতেই ২৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রান করে স্টাম্পড হন টিম, একই ওভারের পঞ্চম বলে ১১ রান করে বোল্ড হন হ্যারি ট্যাক্টর।
দলীয় ৮৮ রানে ১ উইকেট থেকে নবম ওভার শেষে আইরিশদের স্কোর দাঁড়ায় ৮৯/৩।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে লরকান টাকার ও বেনজামিন কালিজ দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। ১১তম ওভারে আয়ারল্যান্ড দলীয় এক শ রান পার করে। তবে এক শ রান পার করার পরই আবারও শেখ মেহেদী আইরিশ ডেরায় আঘাত হানেন। ৯ বলে ৭ রান করে স্টাম্পড আউট হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কালিজ। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মেহেদী।
দ্রুত ৪ উইকেট হারালেও পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন জর্জ ডকরেল ও টাকার। এই দুজনে মিলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ে দলের মাঝ ওভারের বিপর্য্য সামাল দেন। তবে ১৯তম ওভারে ৪৪ বলে ৫৬ রানের জুটি থামান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ২১ বলে ১৮ রান ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডকরেল।
শেষ দিকে লরকান টাকারের ৩২ বলে ৪১ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭০ রানের সংগ্রহ পায় আয়ারল্যান্ড।



