চট্টগ্রামে ১৫৭ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে কখনো জিততে পারেনি বাংলাদেশ। জিততে হলে গড়তে হবে রেকর্ড। সেই সঙ্গে সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। এমন সমীকরণে সামনে ১৭১ রানের লক্ষ্যে নেমে পাওয়ার প্লেতেই আইরিশ বোলারদের একের পর বাউন্ডারি ছাড়া করে বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ ওভারে মাত্র এক বাউন্ডারির দেখা পাওয়া লিটন দাসরা আজ ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬৬ রান তোলেন।
পাওয়ার প্লেতে পারভেজ হোসেন ইমন ও লিটন দাসের আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। লিটন দাসের ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংস ও ইমনের ৪৩ রানের ইনিংসে ১৫ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ১৩৮ রান তোলে বাংলাদেশ। মাঝ ওভারে আইরিশরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর নিতে না পারলেও শেষ দিকে বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিল। এক পর্যায়ে ১৪ বলে ২২ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়। কিন্তু সাইফউদ্দিনের ৭ বলে ১৭ রানের ক্যামিও ইনিংসে শেষ ওভারে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল মাত্র একটি বাউন্ডারি। আজ ১৭১ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম ওভারেই এক চার ও এক ছয় হাঁকান ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। শুরুতেই আগ্রাসী বার্তা দেওয়া বাংলাদেশের ওপেনার প্রথম দুই ওভারে ২১ রান তোলেন। তবে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রানের আউটের ফাঁদে পড়েন তানজিদ হাসান তামিম।
আইরিশ পেসার ব্যারি ম্যাকার্থির স্লো ডেলিভারি পিচের কাছে রেখেই রান নিতে চেয়েছিলেন তামিম। তবে সরাসরি থ্রোতে স্ট্রাইকিং প্রান্তে স্টাম্প ভাঙেন ম্যাকার্থি। আর তাতেই ১০ বলে ৭ রান করে ফেরেন তামিম। দলীয় ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তামিম ফিরে গেলেও লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে নিজের আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে থাকেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ রান পার করে বাংলাদেশ। লিটন-ইমনের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ৬ ওভারে ৬৬ রান তোলে বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লের পর রানের গতি খানিকটা কমে যায় বাংলাদেশের। আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকা ইমন ইনিংসের দশম ওভারে নিজেদের ফিফটির সুযোগ হাতছাড়া করেন। গ্যারেথ ডিলানির লেগ স্পিনে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাকঅওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৮ বলে ৫ চার ও ২ছক্কায় ৪৩ রান করা ইমন।
দশ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেট ৮৬ রান। তৃতীয় উইকেট সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচে হাল ধরেন অধিনায়ক লিটন দাস।
ইমন ফিরে গেলেও নিজের আগ্রাসী ক্রিকেটের গতি কমাননি লিটন। ১২তম ওভারে দলীয় এক শ রান পার করে বাংলাদেশ। এই দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৪তম ওভারে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটির দেখা পেয়ে যান লিটন দাস। ফিফটি পাওয়ার পর নিজের ইনিংসে অবশ্য বেশি বড় করতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৩৭ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৭ রান করে মার্ক অ্যাডাইয়ারের পেসে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন লিটন।
ততক্ষণে অবশ্য দলের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। লিটন যখন ফিরেন তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫ ওভারে ৩ উইকেট ১৩৮ রান। জয়ের জন্য ৩০ বলে ৩৩ রানের প্রয়োজন বাংলাদেশের।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে এমন সহজ সমীকরণ পার করতে গিয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলেন সাইফ হাসান। লিটনের ফেরার পরের ওভারেই ডিলানির স্পিনে লং অনে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৭ বলে ২২ রান করা সাইফ।
দ্রুত দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশকে ১৮তম ওভারে আরও চাপে ফেলেন তাওহীদ হৃদয়। ৯ বলে ৬ রান করে রান আউট হয়ে ফেরেন আগের ম্যাচে ৮৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা হৃদয়। তখনো জয়ের জন্য ১৪ বলে ২২ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের।
আচমকা চাপে পড়া ম্যাচ শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ৭ বলে ১৭ রানের ইনিংসে ২ বল আগে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৬ ওভারে ৭৫ রান তোলা আইরিশরা দুই শ রানের আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু মাঝ ওভারে শেখ মেহেদীর স্পিনে তা আর করতে পারেনি সফরকারীরা। এই অফ স্পিনারের দুই ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট পল স্টার্লিংদের বড় সংগ্রহে ধাক্কা দেয়।
শেষ পর্যন্ত লরকান টাকারের ৩২ বলে ৪১ রানের ইনিংসে ১৭০ রানের সংগ্রহ পায় আয়ারল্যান্ড।



