রাঁচিতে গতকাল রোববার নতুন ইতিহাস লিখেছেন বিরাট কোহলি। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১২০ বলে ১৩৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি কোহলির রেকর্ড ৫২তম সেঞ্চুরি। ক্রিকেটের তিন সংস্করণের যেকোনো এক সংস্করণ বিবেচনায় এটি সেঞ্চুরির রেকর্ড।
কোহলির পাশাপাশি গতকাল ৫৭ রানের ইনিংস খেলার পথে তিনটি ছক্কা মেরে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক বনে গেছেন রোহিত শার্মা। দুজনেই চলতি বছর টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। তবে অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটসম্যানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তাঁদের অবসর ভেঙে মাঠে ফেরার গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
গুঞ্জনের মাত্রা এতটাই বেশি ছড়িয়েছে যে, সেটা নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার কেভিন পিটারসন। পরে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার নেওয়ার সময় গুঞ্জনের জবাব দিয়েছেন কোহলিও। জানিয়েছেন, আপাতত ওয়ানডে সংস্করণই চালিয়ে যেতে চান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে পিটারসন লিখেছেন, ‘বিরাট ও রোহিত আবার টেস্ট খেলার কথা ভাবছেন, এটা যদি অর্ধেক সত্যও হয়, বিষয়টাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত… যদি এই খেলার সবচেয়ে বড় তারকারা আবার খেলতে চান, তাঁদের অবশ্যই খেলা উচিত!’
যাদের নিয়ে এত গুঞ্জন, তাদের মধ্যে কোহলি গতকাল ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় গুঞ্জনের জবাব দিয়েছেন। উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকা হার্শা ভোগলে জানতে চান, কোহলিকে কি শুধু এক সংস্করণে দেখা যাবে?
জবাবে কোনো রাখঢাক না রেখে কোহলি স্পষ্ট করে বলেন, ‘হ্যাঁ, এমনটাই হবে। আমি আপাতত শুধু একটা সংস্করণেই খেলব।’
কোহলির কথায় এটা স্পষ্ট যে, তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে ভাবছেন না। পাশাপাশি এক সংস্করণ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের প্রস্তুতি নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের কিংবদন্তি এ ব্যাটসম্যান।
কোহলি বলেছেন, ‘প্রচুর অনুশীলন করতে হবে- এমন তত্ত্বে আমি কখনই বিশ্বাসী ছিলাম না। ক্রিকেটের ব্যাপারটা আমার কাছে মানসিক। আপনি যদি ক্রিকেটের সংস্পর্শে থাকেন… যদি নেটে এক বা দুই ঘণ্টা কাটান, আপনি জানতে পারবেন আপনি ভালো করছেন।’
২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা কোহলি এরই মধ্যে দেশের জার্সিতে প্রায় দেড় যুগ কাটিয়ে দিয়েছেন। বয়সটাও ৩৭ পেরিয়েছে। এখন শরীরের দিকেও বাড়তি নজর দিতে হয়, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কোহলি, ‘পরিস্থিতি বুঝতে আমি আগেই রাঁচিতে কিছুটা আগেই গিয়েছিলাম… আমার বয়স ৩৭ হয়ে গিয়েছে, শরীরের ওপরও নজর দিতে হয়।’



