কোনো অবস্থাতেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল আইসিসিকে। কিন্তু আইসিসি বাংলাদেশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিয়েছে।
তবে আইসিসি বাদ দেওয়ার আগে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ কোনোভাবে ‘বি’ গ্রুপে যেতে পারলে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় হতো। কিন্তু ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ড গ্রুপ পরিবর্তনে রাজি হয়নি। তাই বাংলাদেশের চাওয়াও পূরণ হয়নি।
এতদিন পর জানা গেল, কেন গ্রুপ পরিবর্তনে রাজি হয়নি আয়ারল্যান্ড। মূলত শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন ও গ্রুপের অন্যান্য প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নিজেদের প্রস্তুতি নিচ্ছিল দলটি। গ্রুপ পরিবর্তন হলে আয়ারল্যান্ডের প্রস্ততিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ত। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ আইনরিখ মালান।
আয়ারল্যান্ড অবশ্য শুরু থেকেই ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি ছিল না। এর আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে বাংলাদেশে এসেছিলেন আইসিসি প্রতিনিধি। সেই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু সেই প্রস্তাবে আইসিসি বা আয়ারল্যান্ড, কোনো পক্ষই রাজি হয়নি।
বাংলাদেশের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় সে সময় আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের এক কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে বলেছিলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত আশ্বাস পেয়েছি যে, আমরা মূল সূচি থেকে সরছি না। আমরা অবশ্যই গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কাতেই খেলব।’
কেন শ্রীলঙ্কাকে খেলার ব্যাপারে অনড় ছিল আয়ারল্যান্ড, সেটা উঠে এসেছে আয়ারল্যান্ড কোচের গতকালের সাক্ষাৎকারে। ক্রিকবাজকে মালান বলেছেন, ‘আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ীই প্রস্তুতি নিচ্ছি। (শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি অনুযায়ী) অভিযোজন ক্ষমতা এবং ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা আমাদের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অর্থাৎ, সামনে যা আছে— উইকেটের অবস্থা, ম্যাচের পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষ— সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেলা এবং নিজেদের গেমপ্ল্যান আরও জোরদার করা। এতে ছেলেরা মাঠে নেমে স্বাধীনভাবে খেলতে পারে। শ্রীলঙ্কা সফরের আগে এটিই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’



