অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়ে রীতিমত দাপট দেখিয়েছেন রিশাদ হোসেন। বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার এবার তাঁর দল হোবার্ট হারিকেন্সের সেরা অস্ত্র ছিলেন। ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। হারিকেন্সের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বোলারও তিনি।
বিগ ব্যাশে শেষে বাংলাদেশে ফিরে বিশ্বকাপের বিমান ধরার কথা ছিল এই লেগ স্পিনারের। তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় এবার ঘরোয়া ক্রিকেট অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়েই মাঠে ফিরেছেন রিশাদ। অস্ট্রেলিয়ায় করা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স গতকাল মিরপুরেও দেখিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচেই নিয়েছেন ২১ রানে ৩ উইকেট।
এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের অস্ট্রেলিয়ার দারুণ অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন এই লেগ স্পিনার। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা কেমন তা জানাতে গিয়ে রিশাদ বলেন, ‘ওরা অনেক বিনয়ী। যত বড় ক্রিকেটার হোক না কেন, ওরা অনেক সরল। যে কারও সঙ্গে আরামসে মানিয়ে নেয়। আমার কাছে এটা ভালো লেগেছে যে বড়–ছোট কোনো কিছু দেখে না। আমি চেষ্টা করব এ রকম থাকতে।’
রিশাদ হোসেনের ফেসবুক পেজে সর্বশেষ পোস্টটা অস্ট্রেলিয়ার দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার রিকি পন্টিং ও স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ছবির পেছনের গল্প জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে ছবি আমিও তুলতে চাইনি। আমি বোলিং করছিলাম, ওনারা ডেকে বললেন এদিকে এসো। তাঁরা অনেক অনেক বন্ধুভাবাপন্ন, অনেক অনেক কিছু ওদের কাছে শেখার আছে। চেষ্টা করেছি কথা বলার, শেখার।’
সবশেষ বিপিএল না খেলে বিগ ব্যাশে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রিশাদ। এমনকি বিগ ব্যাশে দল পাওয়ার পর বিপিএলের নিলামে তিনি নিজের নামই তুলেননি। পুরো মৌসুম খেলে এবার কিংবদন্তি একাধিক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
তবে বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনারের চলার পথটা এতটা সহজ ছিল না। নিজ দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলার কখনো সুযোগ পাননি। ২০১৯ সালে প্রথম বিপিএলে রংপুর রাইডার্সে ডাক পান। এরপর একাধিক দলে খেললেও আজ পর্যন্ত বিপিএলের পুরো মৌসুমের সবকটি ম্যাচ কখনোই এই লেগ স্পিনারকে খেলানো হয়নি।
নিজের সেই অতীতের কথা স্মরণ করে রিশাদ জানান তিনি প্রতিনিয়ত শিখেছেন, ‘যখন খেলতে পারতাম না, ওটা আমার জন্য শিক্ষা ছিল। ওই সময় আমি নিজেকে নিয়ে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করতে পেরেছি। ওটাই আমার জন্য সেরা সময় ছিল, নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছি।’



