আহমেদাবাদে গতকাল রোববার দিনটি ছিল ভারতের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। শিরোপা জেতার পথে আহমেদাবাদের ফাইনালে একগাদা রেকর্ড নতুন করে লিখেছেন সুরিয়া কুমার ইয়াদাভ-যশপ্রীত বুমরা-সাঞ্জু স্যামসনরা।
এক নজরে ফাইনালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রেকর্ড দেখে নেওয়া যাক-
ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্য:
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনবার শিরোপা জেতা একমাত্র দল ভারত। এর আগে ২০০৭ ও ২০২৪ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুবার শিরোপা জেতা দলটার নামও ভারত।
- ভারতই প্রথম দল, যারা ঘরের মাঠে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল।
ফাইনালে ভারতের রান এবং রেকর্ড:
- ২৫৫/৫- আন্তর্জাতিক কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটাও ছিল ভারতের দখলে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৬/৭ রান তুলেছিল ভারত।
- স্বীকৃত টি-টোয়েন্টির ফাইনাল বিবেচনায় নিলে, ভারতের ২৫৫/৫ রানের চেয়ে বেশি রান করেছিল শুধু একটা দল। সৈয়দ মোশতাক আলী ট্রফিতে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২৬২ রান তুলেছিল ঝাড়খন্ড।
৯৬ রানের জয়:
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রানের জয় এটি। আগের রেকর্ডটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১২ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে ৩৬ রানের হারিয়েছিল ক্যারিবীয়রা।
১০৬ ছক্কা:
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক সংস্করণে ছক্কার সেঞ্চুরি করা প্রথম দল ভারত। এক আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা ৭৬টি, এবার যা মেরেছেন উইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা।
ফাইনালে বড় রানের ওভার
- এবারের ফাইনালে অন্তত ২০ রান করে হয়েছে ৭টি ওভারে। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে রেকর্ড। এই ৭টি ওভারের মধ্যে ভারত ৬টি ওভারে এবং নিউজিল্যান্ড ১টি ওভারে ২০+ রান তুলেছে।
- আগের ৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল মিলিয়ে ওভারে ২০+ রান দেখা গেছে মোটে ৭ বার।
পাওয়ারপ্লেতে ভারতের ঝড়:
- ৯২/০: পাওয়ার প্লে-তে গতকাল ভারত এই রান তুলেছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১ উইকেটে ৯২ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
- এবারের বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে-র রান। এর আগে ইডেন গার্ডেনে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিনা উইকেটে ৮৪ রান তুলেছিল সাউথ আফ্রিকা।
- আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে-তে গতকালের চেয়ে বেশি রান তুলতে পেরেছিল মোটে দুবার।
আভিষেকের ফিফটি ও রেকর্ড:
- ১৮ বলে ফিফটি: গতকাল ম্যাচের শুরুতেই ঝড় তুলে মোটে ১৮ বলে ফিফটি আদায় করেন আভিষেক শার্মা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নক আউটে এটাই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৯ বলের (ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেল)।
- আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে চতুর্থবার ২০ বল খেলার আগেই ফিফটি করলেন আভিষেক। এর আগে সর্বোচ্চ ৩ বার করে ২০ বলের আগে ফিফটি করার রেকর্ড গড়েছেন ফিন অ্যালেন, ডেভিড ওয়ার্নার, ফিল সল্ট, কোলিন মানরো ও ইয়ুভরাজ সিং।
স্যামসনের ধারাবাহিকতা ও রেকর্ড:
- সর্বশেষ ৩ ম্যাচে স্যামসন ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে টানা ৩ ম্যাচে অন্তত ৮৫ রান করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েন ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাকিওন।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত টানা ইনিংসে ৫০+ রান করা সপ্তম ব্যাটসম্যান স্যামসন।
- একই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করা তৃতীয় ব্যাটসম্যান স্যামসন। এর আগে এটি করতে পেরেছেন শুধু শাহিদ আফ্রিদি ও ভিরাট কোহলি।
- ২৪ ছক্কা: এই বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন স্যামসন। যা এক বিশ্বকাপে ছক্কা মারার সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ডটা ছিল নিকোলাস পুরানের (১৭টি) দখলে।
টপ অর্ডারের বিরল রেকর্ড:
- গতকাল ভারতের টপ অর্ডারের তিন অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানই ফিফটি (স্যামসন ৮৯, আভিষেক ৫২ ও ইশান ৫৪) করেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান ফিফটি করলেন।
- বিশ্বকাপে কোনো একটা দলের যেকোনো তিন ব্যাটসম্যানের ফিফটির পঞ্চম ঘটনা এটি। ফাইনাল তো বটেই, নকআউটেই প্রথম এমনবার দেখল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
বুমবুম বুমরা:
- ৪০ উইকেট: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বুমরার উইকেট এখন ৪০টি। এ সংস্করণের বিশ্বকাপে কোনো পেসারের ক্ষেত্রে এটি রেকর্ড। বুমরা গতকাল ছাড়িয়ে গেছেন লাসিথ মালিঙ্গাকে (৩৮ উইকেট)।
- ৪/১৫- গতকাল ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরা, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা বোলিং। ১২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রেকর্ডে সবার ওপরে আজান্তা মেন্ডিস।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা ও ফাইনাল সেরা- দুই পুরস্কারই জেতা চতুর্থ ক্রিকেটার বুমরা। এবারের ফাইনালে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা বুমরা এর আগে ২০২৪ বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন।



