বাংলাদেশের জয় প্রথম ইনিংসেই নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন পেসার নাহিদ রানা। এই ডানহাতি পেসারের গতির ঝড়ে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ছোট লক্ষ্যে নেমে ওপেনার তানজিদ তামিমের ঝোড়ো ফিফটিতে ৮ উইকেট ও ২০৯ বল বাকি থাকতেই ১১৫ রানের লক্ষ্য টপকে যায় বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এর চেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জিতেছে মাত্র দুই ম্যাচে। প্রথমটা ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২২৯ বল আগে, এরপর ২০২৩ সালে ২২১ বল আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। বলের হিসেবে পাকিস্তান এই তালিকায় উঠে গেল তিন নম্বরে।
লক্ষ্যে নেমে রীতিমত টি-টোয়েন্টি মেজাজে রান করতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৫ রান তোলেন সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪ রান করা সাইফ হাসান।
দ্বিতীয় উইকেটে ক্রিজে নেমেই আগ্রাসী মেজাজে রান তুলতে থাকেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওপেনার তানজিদ তামিমের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের বোলারদের পাওয়ার প্লেতে একের পর এক বাউন্ডারি ছাড়া করেন। দশ ওভারেই ১ উইকেট বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৮১ রান তোলেন শান্ত-তামিম জুটি।
শেষ দিকে ২৭ রান করা শান্ত মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে বিদায় নিলেও বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ তামিম। ১৬তম ওভারে ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৭ রান করা তামিম বাংলাদেশের ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন। ২০৯ বল বাকি থাকতেই বিশাল জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান নাহিদ রানার গতির ঝড়ে সর্বনিম্ন রানের লজ্জার মুখে পড়ে। চার অভিষিক্ত ক্রিকেটার নিয়ে একাদশ সাজিয়ে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ৬৯ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় সফরকারীরা। শুরুর ৫ উইকেটই নেন নাহিদ রানা।
ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি। আউট করেছেন সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগাকে। তাঁর ৭ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪ রানের স্পেলেই মূলত পাকিস্তান অল্পতেই গুটিয়ে যায়। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফের ৩৭ রানে ভর করে এক শ রানের গন্ডি পার করে পাকিস্তান। ৩১তম ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় শাহিন শাহর দল। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী ১৩ মার্চ।



