দ্য হানড্রেডের নিলামে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা দল পান কি না, পেলেও ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁদের প্রতি আগ্রহ দেখায় কি না- এ নিয়ে আগ্রহ ছিল ক্রিকেট প্রেমীদের। সেটার পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে।
১০০ বলের এ টুর্নামেন্টের আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে চারটিই আইপিএল সংশ্লিষ্ট ভারতীয় মালিকানাধীন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি গতকাসে এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রিকেটারদের এজেন্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা জায়গা পাবেন না। বিষয়টি নিয়ে সে সময় জলঘোলা কম হয়নি।
অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার ওই ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবারের নিলামে ঠিকই ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে দল পেয়েছেন আববার আহমেদ। পাকিস্তানের রহস্য স্পিনারকে রীতিমতো কাড়াকাড়ি করে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স লিডস, বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা প্রায় ৩ কোটি ১২ লাখ টাকারও বেশি।
আবরার ছাড়াও দ্য হানড্রেডের নিলামে দল পেয়েছেন আরেক পাকিস্তানি- উসমান তারিক। ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশনের কারণে আলোচিত উসমানকে তারিককে ১ লা ৪০ হাজার পাউন্ডে (২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি) দলে নিয়েছে বার্মিংহাম ফোনিক্স। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ১ লাখ পাউন্ডে (১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি) কিনেছে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকেও।
গতকালের নিলামে দুই পাকিস্তানি দল পেলেও আলোচনা বেশি হচ্ছে আববার আহমেদকে নিয়ে। কারণ আরবারকে দলে নেওয়া সানরাইজার্স লিডসের পুরো মালিকানা ভারতীয় মিডিয়া গ্রুপ সান টিভির। গত বছর সান গ্রুপ যখন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পুরো স্বত্ব কিনে নেয়, তখন এর নাম ছিল নর্দার্ন সুপারচার্জার্স।
আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও এসএ টোয়েন্টির সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের মালিকও এই গ্রুপটি। ওই দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে মিল রেখে হানড্রেডের ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নামও পরিবর্তন করে সানরাইজার্স লিডস।
অবশ্য আবরাকে খুব সহজে পায়নি লিডস। ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের পাকিস্তানি স্পিনারকে পেতে লিডসের সঙ্গে নিলামে নামে ট্রেন্ট রকেটস। দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়। তাতে ক্রমশও দাম বাড়তে থাকে আবরারের। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় লিডস।
উসমান তারিক ও আবরার আহমেদ ছাড়া পাকিস্তানের আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম উঠেছিল নিলামে। কিন্তু হারিস রউফ, শাদাব খান ও সাইম আইয়ুবের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। এছাড়া শাহিন শাহ আফ্রিদি নিলামের কিছু আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন।



