টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি- সব সংস্করণেই সমানতালে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় ধরাতে পারেন কিংবা মুহূর্তের স্পেলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন- বোলারদের এমন তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবেন যশপ্রীত বুমরা।
ব্যতিক্রমী বোলিং স্টাইল, দুর্দান্ত গতি, সুইংয়ের সঙ্গে ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষমতা বুমরাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতি হোক না কেন, বল পুরোনো নাকি নতুন- সেসবে কিচ্ছু যায় আসে না। বল হাতে বুমরা সবসময়ই সমান ভয়ংকর।
সেই বুমরা-ই যেন এবার মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছেন। এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে কোনো উইকেটই নিতে পারেননি। ২০২৫ আইপিএলের শেষ ম্যাচেও উইকটেশূন্য ছিলেন তিনি। অর্থাৎ, আইপিএলে টানা ৫ ম্যাচেই উইকেটশূন্য বুমরা!
ক্রিকেটে পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকভিজ জানাচ্ছে, আইপিএলে সর্বশেষ ১২২ বলে কোনো উইকেট নিতে পারেননি বুমরা। ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি এ লিগে এটাই তাঁর দীর্ঘতম উইকেটশূন্য স্পেল।
তবে উইকেট না পেলেও অন্যভাবে অবদান রাখবেন বুমরা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিপক্ষের রান আটকে দিচ্ছেন সমানতালে। এই যেমন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের গতকালের ম্যাচটাই ধরা যাক।
ওয়াংখেড়ে রানবন্যার ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে বেঙ্গালুরু ২৪০ রান তুলেছিল। মুম্বাইয়ে অন্য সব বোলার যেখানে বেধড়ক পিটুনি খেয়েছেন, সেখানে বুমরা ওভারপ্রতি ৮.৭৫ রান দিয়েছেন। শুধু এই ম্যাচেই নয়, উইকেটশূন্য থাকা ৫ ম্যাচের মোটে দুটিতে ওভারপ্রতি ১০ এর বেশি রান দিয়েছেন তিনি!
রান কম দেওয়াকে যদি নখের আঁচড়, আর উইকেট নেওয়াকে যদি কামড় বসানোর সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে এবারের আইপিএলে বুমরা হচ্ছেন এমন এক বাঘ, যার নখ আছে, কিন্তু দাঁত নেই! অন্যদের চেয়ে রান কম দিচ্ছেন বটে, কিন্তু উইকেট পাচ্ছেন না- যেন নখে আঁচড় দিলেও যুতসই কামড়টা বসাতে পারছেন না।
বুমরার উইকেট না পাওয়া নিয়ে তাই খুব বেশি চিন্তিত নন ভারতের সাবেক স্পিনার রাভীচন্দ্রন আশউইন। দুঃসময়ে বুমরার পাশেই দাঁড়িয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে আশউইন লিখেছেন, ‘বুমরার উইকেট না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা দলের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু উইকেটের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিখুঁত ইয়র্কার দিয়ে প্রতিপক্ষকে রান করতে না দেওয়া, বিশেষ করে ওয়াংখেড়ের মতো ভেন্যুতে।’
বুমরা কেন উইকেট পাচ্ছেন না, সেটার ব্যাখ্যায় আশআউট লিখেছেন, ‘যখন আপনি টানা ওভার করছেন না, তখন আমরা উইকেট নেওয়ার বিষয়টি না নির্ভর করে সঙ্গী অন্য বোলারদের ওপর। আমরা অনেক বছর ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দেখছি, কিন্তু এখনো বোলিং ইউনিটগুলোতে দলগতভাবে রক্ষণাত্মক বোলিং করার ধারণাটা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।’



