গত শুক্রবার চেন্নাস্বামীতে গুজরাট টাইটানসের মুখোমুখি হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ওই ম্যাচের দিন স্টেডিয়াম এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থায় ভয়াবহ নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। আর সে নাশকতায় ২৪০টির বেশি সিসি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় কাব্বন পার্ক পুলিশে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন, বারবার চেয়েও পাওনা টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ ও হতাশায় এমন কাজ করেছেন তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে।
স্টেডিয়ামে নজরদারি ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা এক প্রতিনিধির করা এফআইআর অনুসারে, ম্যাচের দিন নিয়মিত পরিদর্শনের সময় ২৪০টির বেশি ক্যামেরাকে অচল অবস্থায় দেখা যায়। এতে স্টেডিয়ামে প্রবেশ পথ, চারপাশের এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি ব্যাহত হয়। ফলে ম্যাচের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনের নাম পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে এফআইআরে। একজন ৩৭ বছর বয়সী মঞ্জুনাথ এবং অন্যজন ১৯ বছর বয়সী আব্দুল কালাম। দুজকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুজনেই স্টেডিয়ামের ডিজিটাল ও নজরদারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আইভিএস ডিজিটাল সলিউশনের সাব-ভেন্ডরের অধীনে কাজ করতেন।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন সরঞ্জামে ভাংচুর চালান। অভিযোগের ভিত্তিতে এ দুজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংসতার ধারা ৩২৪ (৪)সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সেন্ট্রাল ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার আকশায় এম হাজায় জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ায় সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘২৪ তারিখ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। সাব-ডিস্ট্রিবিউটরের দুই কর্মী স্টেডিয়ামে ঢুকে সিসিটিভি ফাইবার সংযোগ ও ভিডিও রেকর্ডার ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিষয়টি নজরে আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই ঠিক করা হয়।’
অভিযুক্ত দুজন কেন এমন হামলা করেছেন, সেটার ব্যাখ্যায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তারা এমন কাজ করেছে— সম্ভবত বেতন না পাওয়ার কারণেও হতে পারে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক ঘণ্টার মধ্যেই সব সিসিটিভি সচল হয়ে যায় এবং ম্যাচে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।’
তদন্তে অন্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দুই ব্যক্তি কন্ট্রোলরুম ও পার্কিং এলাকার সংযোগ বক্সসহ সংবেদশনীল বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করেছেন। এ ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে প্রাথমিক প্রতিবেদনে পুলিশ জানতে পেরেছে, বকেয়া থাকা ১০ লাখ রুপি না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই ভাংচুর চালান তারা। অভিযুক্তরা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে দাবি করেছেন, বারবার মনে করিয়ে দেওয়ার পরও পাওনা টাকা না পেয়ে হতাশা থেকেই এমন কাজ করেন তারা।



