৩১ রানে দুই ওপেনারের বিদায়। দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। সেই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩০১ রান। শুধু স্কোরকার্ড দেখেই বলে দেওয়া যায়, মিরপুরে প্রথম দিনটা বাংলাদেশেরই।
দিনটা বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসতে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টেস্ট ক্যারিয়ারে ৯ম ও সর্বশেষ ৮ ইনিংসে চতুর্থ সেঞ্চুরি আদায় করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেই সঙ্গে মুমিনুল হকের ৯১ ও দিনের শেষ ভাগে মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৪৮ রানে ভর করে বড় সংগ্রহের পথেই আছে বাংলাদেশ।
তা পক্ষে যাওয়া দিনে কি কোনো আফসোস নেই? অবশ্যই আছে। এই যেমন সেঞ্চুরির উদযাপনের রেশ না কাটতেই পরের বলেই আউট হয়েছেন শান্ত। কিংবা তিন অঙ্ক থেকে মোটে ৯ রান দূরে থেকে মুমিনুলের বিদায়।
এর মধ্যে মুমিনুলের আক্ষেপটা বেশি হওয়ার কথা! এ নিয়ে টেস্টের সর্বশেষ চার ইনিংসেই ফিফটি (৮২, ৮৭, ৬৩, ৯১) পেরিয়েছেন, কিন্তু সেসবের একটিও সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারলেন না। অন্যদিকে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার তালিকায় অনন্য কীর্তিই গড়েছেন শান্ত।
অবশ্য এ দুজন যখন উইকেটে গেলেন, তখন বাংলাদেশ রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে। ইনিংসের ৭ম ওভারে শাহিন আফ্রিদির খাটো লেংন্থের আউটসুইং ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৮)।
তখন বাংলাদেশের রান সবে ১৮। উইকেটে গেলেন মুমিনুল। কিন্তু দলের রান ৩১ হতেই অন্য প্রান্তে আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামের (১৩) বিদায় দেখলেন। দুই ওপেনার হারিয়ে বাংলাদেশ তখন বিপদে।
এমন পরিস্থিতিতে দলের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন মুমিনুল ও শান্ত। এক প্রান্তে দেখে শুনে খেলতে থাকলেন মুমিনুল, অন্যপ্রান্তে রয়েসয়ে খেলার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে প্রতি-আক্রমণ চালান শান্ত। তাতে একদিকে যেমন বাংলাদেশের বিপদ কাটতে থাকে, তেমনি বাড়ে দুজনের জুটির রান, বাড়তে থাকে বাংলাদেশের সংগ্রহও। দুজনের দৃঢ়তায় আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০১ রানে প্রথম সেশন শেষ করে বাংলাদেশ।
মধ্যাহ্নভোজের পর ৭১ বলে ফিফটি আদায় করেন শান্ত। পানি পানের বিরতির পর ফিফটির দেখা পান মুমিনুলও (১০২ বলে)। দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটির রানও দেড়শ পেরিয়ে যায়।
দ্বিতীয় সেশনের ঠিক শেষ ওভারে সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত (১২৯ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায়)। তিন অঙ্ক ছুঁয়ে পরের বলেই এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তাতে শান্ত-মুমিনুল তৃতীয় উইকেট জুটি থেমে যায় ১৭০ রানে।
শান্তর বিদায়ের পর মুশফিকের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থাকতে নোমান আলীর বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে বিদায় নেন সাবেক এ অধিনায়ক।
দিনের শেষভাগে পাকিস্তানকে আর কোনো উইকেট দেয়নি বাংলাদেশ। মুশফিক ৪৮ রানে ও লিটন দাস ৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।


সেঞ্চুরির যে রেকর্ডে শান্তই সবার ওপরে
