দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ওডিআই সিরিজ খেলতে নেমেই হারের স্বাদ পেল ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। আর এতে ২১ বছর পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ক্যাঙ্গারুদের হারাল টাইগাররা। এর আগে ২২ বারের সাক্ষাতে মাত্র ১ বারই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার মিরপুরে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ডাকওয়ার্থ এন্ড লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
সকালে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের ২৮৪ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভার ২ বলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান তুলতে সক্ষম হয়। অজিদের জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ৪৬ বলে ৯৪ রান; আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ১টি উইকেট। এই অবস্থায় টাইগারদের জয় যখন মনে হচ্ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা তখনই বাধ সাধে বেরসিক প্রকৃতি। তবে বৃষ্টির হানায় অপেক্ষার প্রহর কিছুটা দীর্ঘায়িত হলেও ডিএলএস পদ্ধতিতে ঠিকই জয় তুলে নিয়েছে মিরাজ-মোস্তাফিজ-মোসাদ্দেকরা।
২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের অনবদ্য এক শতরানের কল্যাণে পন্টিং, গিলক্রিস্ট, হেডেনদের ‘মাইটি অস্ট্রেলিয়াকে’ হারায় হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা। আজ মিরপুরে আশরাফুলের সেই অতিমানবীয় ইনিংসের কথাই যেন মনে করিয়ে দেন প্রায় ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
ছয় নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেন মোসাদ্দেক। ৭টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো তার এই ইনিংসের ওপর ভর করেই ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৮৪।
এর আগে সকালে ইনিংসের শুরুতে দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার সাইফ হাসানের ইউকেট হারালেও তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রান যোগ করলে শুরুটা ভালোই হয় স্বাগতিকদের। তবে ব্যক্তিগত ৬৭ রানে শান্ত, ৫৪ রানে তানজিদ এবং লিটন ৭ রানে ফিরে গেলে বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ১০৬ থেকে ৪ উইকেটে ১৪০-এ পরিণত হয় মাত্র ১০ ওভারের ব্যবধানে।
এরপর উইকেটের একদিকে মোসাদ্দেক এবং অন্যদিকে প্রথমে তৌহিদ হৃদয়ের ৩১ এবং পরে তাসকিনের ১৬ বলে ২০ রানের ক্যামিও বাংলাদেশের সংগ্রহকে নিয়ে যায় ২৮০’র ওপরে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল নাথান এলিস ৩৮ রান খরচায় নিয়েছেন ৩টি উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন নিজের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামা লিয়াম স্কট ও ম্যাট রেনশ।
২৮৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ইংনিসের প্রথম বলেই অজি ওপেনার ম্যাথিউ শর্টকে পরাস্ত করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই লাবুশানেকে ফর্মে ফেরার সুযোগ না দিয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজ।
এরপর ওপেনার কুপার কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রান যোগ করলেও বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। ক্যারি ব্যক্তিগত ৪৭ রানের নাহিদের বলে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। অন্যদিকে, কনোলিকে বোল্ড করে ৩৫ রানেই থামিয়ে দেন মোসাদ্দেক।
পরবর্তীতে মিডল অর্ডারে ক্যামেরন গ্রিনের অপরাজিত ৫২ ছাড়া অজি ব্যাটারদের আর কেউই তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। বল হাতে নিজের সেরা ফর্ম ধরে রেখে ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন তরুণ এই পেসার নাহিদ রানা।
ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও সফল মোসাদ্দেক। ১০ ওভারে ৩৭ রান খরচায় কনোলি ও ম্যাট রেনশ’র উইকেট দুটি তুলে নেন তিনি। এছাড়া ২টি উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজও।



