গত জানুয়ারিতে রোমা তাঁকে হঠাৎ বরখাস্ত করার পর বলেছিলেন, ‘সম্ভব হলে কালই আবার কাজে নেমে পড়তে চাই, তবে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি না।’ ছয় মাস সময় নিয়ে অবশেষে জোসে মরিনিও যে সিদ্ধান্ত নিলেন, সেটা অনেকের কাছেই চমক হয়ে আসতে পারে।
মরিনিও যে ইউরোপের সেরা মঞ্চের বাইরেই চলে যাচ্ছেন! এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, আগামী মৌসুমে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচের দায়িত্ব নিচ্ছেন মরিনিও। দলবদলবিষয়ক খবরের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সাংবাদিক ফাব্রিসিও রোমানো জানিয়েছেন, দুই পক্ষে চুক্তি সই হয়ে গেছে।
স্কাই স্পোর্টস জানাচ্ছে, ৬১ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচের সঙ্গে ফেনেরবাচের চুক্তিটা প্রাথমিকভাবে দুই বছরের, তবে দুই পক্ষ রাজি থাকলে আরও এক মৌসুম বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে চুক্তিতে।
২০১৪ সালের পর তুরস্কের লিগই না জেতা ফেনেরবাচে গত মৌসুমে লিগে একটা ম্যাচই কেবল হেরেছে, ৯৯ পয়েন্ট নিয়েও হয়েছে দ্বিতীয়, লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গালাতাসারাই। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে।
তুরস্কের লিগের নাম সেই পঞ্চাশের দশকে ‘সুপার লিগ’ হওয়ার পর থেকে লিগটা ১৯ বার জিতেছে ফেনেরবাচে, এর আগে লিগ জিতেছে আরও ৯ বার। তুরস্কের লিগ তাদের চেয়ে বেশি আর জেতেনি কোনো দল। তবে ইউরোপে দলটা কখনোই সফল হতে পারেনি।
যতই ঐতিহ্যবাহী হোক, তবু ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে নয়, কখনো ইউরোপে আলো ছড়াতে পারেনি - এমন একটা দলের দায়িত্ব মরিনিও নিচ্ছেন বলেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, তবে কি ইউরোপের সেরা মঞ্চের বাইরে চলে যাচ্ছেন মরিনিও?
শিরোপা তিনি সবখানেই জিতেছেন, তবু জোসে মরিনিওকে যে ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলো আর চাইছে না – সেটা দিনকে দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। নিউক্যাসল, পিএসজির মতো আরব পেট্রোডলারে ধন্য ক্লাবগুলোর সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে গুঞ্জন উঠেছিল বটে, তবে সে গুঞ্জন বাতাস পায়নি অতটা।
রেয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর চেলসিতে দ্বিতীয় দফায় সেই যে ২০১৫ সালে একবার লিগ জিতেছেন, এরপর আর কোথাও কখনো লিগ জেতা হয়নি মরিনিওর। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ইউরোপা লিগ জিতলেও সেখানে সফল হতে পারেননি। টটেনহ্যামে তো কিছুই জেতা হয়নি। সর্বশেষ রোমায় গিয়ে দলটাকে প্রথম ইউরোপিয়ান শিরোপা (ইউরোপা কনফারেন্স লিগ) এনে দিয়েছেন, পরের মৌসুমে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও তুলেছেন, কিন্তু কদিন আগে সেই রোমাই তাঁর সঙ্গে সম্পর্কটা ভেঙেচুরে দিল!
তাঁর ফুটবল রক্ষণাত্মক বলে সমালোচনা আছে, তার চেয়েও বেশি সমালোচনা সম্ভবত প্রতিটি ক্লাবে এক-দুই মৌসুম পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কারণে… সব মিলিয়ে এ যুগের ফুটবলের সঙ্গে মরিনিও কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে অনেকদিন হলো। এর মধ্যেও অবশ্য রোনালদোদের কোচ হওয়ার সুযোগ এসেছিল তাঁর। মরিনিওই জানিয়েছিলেন, রোমায় থাকার সময়ে পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন রোমায় থিতু হতে চেয়েছেন বলে। সেই রোমাও সম্পর্কচ্ছেদ করার পর এখন মরিনিওর জায়গা হলো ইউরোপের পাদপ্রদীপ থেকে অনেকটা আড়ালে।



