বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের পদত্যাগ চেয়ে কদিন ধরেই আন্দোলন করে চলেছে বাংলাদেশের ফুটবলের সমর্থকগোষ্ঠী ‘বাংলাদেশ ফুটবল আলট্রাস।’ বাফুফে ভবনের সামনেও অবস্থান কর্মসূচিও করেছে তারা।
এ নিয়ে আজ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কথা বলেছেন ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের সঙ্গে। সেখানে তিনি বলেছেন, তাঁর পদত্যাগ কেউ চাইতে পারে না। নির্বাচনই ফিফার কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান জানিয়ে তিনি বলেছেন, তিনি আগামী ২৬ অক্টোবরের বাফুফে নির্বাচনেও অংশ নেবেন। উল্টো আলট্রাসের উদ্দেশে বলেছেন, আলট্রাস যেন চাইলে নির্বাচনে অংশ নেয়।
‘পদত্যাগের দাবি তো কেউ করতে পারে না। কারণ হলো, ফুটবল বিশ্বে বদলের একমাত্র ফর্মুলা হলো নির্বাচন। আমি তো অক্টোবরের ২৬ তারিখ ইলেকশান দিয়ে দিয়েছি। উনাদেরকে এসে বলেন যে নির্বাচন করতে। ওরা যেটা বলতেছে, যে আমি যদি রিজাইন না করি, আমি যদি ইলেকশান না করি, ওরা আমাকে বেইজ্জতি করবে, আমাকে মারবে’ – বলেছেন কাজী সালাউদ্দিন।
মারধর কিংবা অপমানের কথা আলট্রাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কি না – এমন প্রশ্নের জবাবে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভিডিও আছে। আমার কথা হলো, আপনি কিন্তু একটা কথা ভুলে যাবেন না যে, ৭১-এ আমি কিন্তু স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়। স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি, ঠিক আছে? আমি রাজনীতি করি না, আমি ২০০৮-এ প্রথম নির্বাচিত হয়েছি ফেডারেশনে। আমি কিন্তু ২০০৮ এ ইলেকশান করেছি আওয়ামী লিগের প্যানেলের বিপক্ষে। বাদল রায়, সালাম মুর্শেদী, নাবিল হারুন উর রশিদ, জেনারেল আমিন – এরা ছিল এক প্যানেলে, আমি ছিলাম এক প্যানেল। তারপর আমি চারটা ইলেকশান করে আসছি। আমি কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট এই ১৬ বছর ধরে। আমি কিন্তু ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ – এদের প্রেসিডেন্ট আজকে ১৬ বছর ধরে। আমি ইলেকশান করে এসেছি, আমি তো রাস্তা থেকে এসে বসি নাই। তাই এমন কোনো সিস্টেম নেই যে আপনি আমাকে ইলেকশান করতে দেবেন না।’
তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি কাজী সালাউদ্দিনের। বিগত দিনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কিংবা এরপর বিএনপি বা আওয়ামী লীগের শাসন – সব শাসনামলেই তাঁর জেতা বিভিন্ন পুরস্কারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি তো কখনো এমপিও ছিলাম না, মন্ত্রীও ছিলাম না। আমি তো রাজনীতি করি না। আমাকে কেন আপনি ধমকি দিবেন, ইলেকশান করতে দেবেন না। আপনারা নির্বাচন করেন। আপনারা বলতে পারতেন যদি আমি নির্বাচন না দিতাম। আমি তো নির্বাচন দিয়ে দিয়েছি। আপনারা এত ফেবারিট, আসেন জিতে নিয়ে যান, অসুবিধা কোথায়!’
নির্বাচনের বাইরে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলে সেটা বাংলাদেশকেই ফিফার নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে জানিয়ে এরপর কাজী সালাউদ্দিনের দাবি, ‘আপনি নির্বাচন ছাড়া কোনোভাবে চেইঞ্জ করতে পারবেন না। কারণ, ফিফাতে এমন কোনো সিস্টেম নেই যেখানে আপনাকে মেনে নেবে। বরং আমি পদত্যাগ করলে বাংলাদেশকে সাসপেন্ড করবে। আমি আমার দেশকে প্রোটেক্ট করে রাখছি।’
বাংলাদেশ ফুটবলে চলমান পরিস্থিতির পর ফিফা থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে বাফুফে সভাপতি বলেছেন, ‘ওরা আমাকে বলছে, কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ থাকলে তুমি আমাকে জানাও, আমরা তোমাকে সুইজারল্যান্ডে প্রোটেকশান দেব। আমি বলেছি আমার প্রোটেকশানের দরকার নাই, আমি ঠিক আছি। বলল, কোনো সিস্টেম নাই যেখানে ওরা ইলেকশান ছাড়া তোমাকে চেইঞ্জ করতে পারে।’


কাজী সালাউদ্দিনের দাবি, ‘আলট্রাস’রা সাইফ স্পোর্টিংয়ের কর্মচারী
খেলোয়াড়েরা আমাকে বলে আপনি থাকার কারণে আমাদের গাড়ি-বাড়ি আছে: কাজী সালাউদ্দিন
