ম্যাচের তখন সবে ১০ মিনিট পেরিয়েছে। ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে এভারটনের বিপক্ষে ডানপ্রান্ত ধরে দারুণ এক আক্রমণে উঠেছিলেন ব্রায়ান এমবেউমো। কিন্তু এভারটন ডিফেন্সে ক্যামেরুন তারকার প্রচেষ্টা প্রতিহত হয়।
এরপরও সুযোগ পায় ম্যান ইউনাইটেড। এভারটন মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গানা গ্যেয়ে নীচে নেমে বল কেড়ে নিয়ে পাশে দাঁড়ানো মাইকেল কিনকে দেন ক্লিয়ার করার জন্য। কিন্তু কিন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকেন নিজের জায়গায়। এই সুযোগে শট নিয়েছিলেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। ম্যান ইউনাইটেডের পর্তুগিজ তারকার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট ছিল বলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় এভারটন।
কিন্তু বল ক্লিয়ার না করায় কিনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে থাকে গ্যেয়ের। মেজাজ হারিয়ে একপর্যায়ে কিনকে চড় মেরে বসেন গ্যেয়ে। এতে রেফারি লাল কার্ড দেখান সেনেগাল মিডফিল্ডারকে। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই ১০ জনে পরিণত হয়ে পড়ে এভারটন। কিন্তু একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি ম্যান ইউনাইটেড। ম্যাচটা ১-০ ব্যবধানে হেরেছে রুবেন আমোরিমের দল। হারার পর ইউনাইটেড কোচ পুরোনো কথাই আবার নতুন করে শুনিয়েছেন, তাঁর দল প্রিমিয়ার লিগে লড়াই করার মতো অবস্থায় নেই!
গতকাল ১০ জনে পরিণত হওয়ার পরও হাল ছাড়েনি এভারটন। ২৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে দারুণ দক্ষতায় দুজনকে ড্রিবল করে বক্সের ঠিক লাইন থেকে কোনাকুনি শটে ম্যান ইউনাইটেডের জালে বল জড়ান কিয়েরনান ডেউসবারি হল। এ গোলটাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
ম্যান ইউনাইটেড অবশ্য ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা কম চালায়নি। কিন্তু এভারটনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারলেও গোলপোস্টের নিচে পিকফোর্ড বাধা পেরোতে পারেননি ফের্নান্দেস-এমবেউমোরা। ম্যাচে অন্তত ৬টি দুর্দান্ত সেভ করে এভারটনের জাল অক্ষত রাখেন পিকফোর্ড। তাতে ২০১৩ সালের পর প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে প্রথমবারের মতো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এভারটন।
মজার বিষয়, এক যুগ আগে ইউনাইটেডকে তাদেরই ঘরের মাঠে হারানোর ম্যাচে রেড ডেভিলদের কোচ ছিলেন ডেভিড ময়েস। ৬২ বছর বয়সী স্কটিশ কোচ এখন এভারটনের ডাগআউট সামলাচ্ছেন!
এদিকে গতকালের হারের পর ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১০-এ আছে ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে ১১তে এভারটন।
গত মৌসুমে ১৫তম হয়ে মৌসুম শেষ করেছিল ম্যান ইউনাইটেড। এবারও তেমন কিছু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির কোচ। সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন, তাঁর দল শীর্ষ পর্যায়ে লড়াই করার মতো অবস্থায় নেই।
ম্যাচ শেষে আমোরিম বলেছেন, ‘আমরা শীর্ষস্থানের জন্য লড়াই করার মতো অবস্থায় নেই। এমনকি শীর্ষস্থানের আশে-পাশে থাকার মতো অবস্থাতেও নেই। গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে সবাই আমাদের উন্নতির কথা বলছে। কিন্তু আমি সবসময় একই কথা বলছি, এই ক্লাবের যেখানে থাকার কথা, আমরা এখনো সেই মানের কাছাকাছি অবস্থানেও নেই।’
গত মৌসুমের দুঃস্মৃতি মনে করিয়ে আমোরিম বলেন, ‘গত মৌসুমে আমরা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম, তেমন ভয়টাই পাচ্ছি। এটাই আমার সবেচেয়ে বড় চিন্তা।’



