প্রিমিয়ার লিগে টানা আট ম্যাচ জয়শূন্য টটেনহ্যাম। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এমন বাজে সময় আর দেখেনি ক্লাবটি। পয়েন্ট টেবিলে এখন তাদের অবস্থান ১৬তম। সবশেষ ১৭ লিগ ম্যাচে স্পার্সের জয় মাত্র দুটি। এমন পরিস্থিতিতে কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ককে বিদায় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টটেনহ্যাম।
গত জুনে লন্ডনের আরেক ক্লাব ব্রেন্টফোর্ড থেকে এসে টটেনহ্যামের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফ্র্যাঙ্ক। অ্যাঞ্জে পোস্তেকগলুর বিদায়ের পর তিন বছরের চুক্তিতে (২০২৮ পর্যন্ত) স্পার্সের ডাগআউটে এসেছিলেন ড্যানিশ এই কোচ।
জুনে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার সময়ে টটেনহ্যামের উচ্ছ্বাসের শেষ ছিল না! থাকারই কথা! টটেনহ্যামে আসার আগে ব্রেন্টফোর্ডে যে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছিলেন ফ্র্যাঙ্ক! ২০১৮ সালের অক্টোবরে ব্রেন্টফোর্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লাবটিকে শুধু ৮৬ বছর পর প্রিমিয়ার লিগেই তুলে আনেননি, সেখানেও অল্প বাজেটেই ব্রেন্টফোর্ডকে পয়েন্ট তালিকার মাঝের সারির দল বানিয়ে ফেলেন। তার পাল্টা আক্রমণভিত্তিক খেলার ধরনে ব্রেন্টফোর্ড নিয়মিতই বড় দলগুলোকেও ভুগিয়েছে।
কিন্তু টটেনহ্যামে এত আশা-ভরসা জাগিয়ে এসেও কিছুই করতে পারলেন না ফ্র্যাঙ্ক। অথচ তাঁকে আনতে টটেনহ্যাম ১৭ বছর পর কোনো শিরোপা এনে দেওয়া পস্তেকগলুকেও ছেড়ে দেয়! গত মৌসুমে স্পার্সকে ইউরোপা লিগ জিতিয়েছিলেন পস্তেকগলু, যদিও লিগে একেবারেই ভালো করতে পারেননি। তাঁকে বরখাস্ত করে ফ্র্যাঙ্ককে আনে স্পার্স। তবে প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে ১৭তম হওয়া দলটিকে বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না ফ্র্যাঙ্ক।
প্রিমিয়ার লিগে ২৬ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট—গড়ে ম্যাচপ্রতি মাত্র ১.১২ পয়েন্ট। ক্রীড়া পরিসংখ্যান ও ডেটা বিশ্লেষণ সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ ম্যাচ দায়িত্ব পালন করা টটেনহ্যাম কোচদের মধ্যে ম্যাচপ্রতি গড় পয়েন্টের হিসাবে এটি সর্বনিম্ন। পরিসংখ্যানের হিসেবে টটেনহ্যামের সবচেয়ে বাজে সময় পার করা কোচের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে বিদায় হলেন ফ্রাঙ্ক।
তাঁকে ছাঁটাই করার বিবৃতিতে টটেনহ্যাম লিখেছে, ‘ছেলেদের দলের প্রধান কোচের পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং থমাস ফ্র্যাঙ্ক আজই ক্লাব ছাড়ছেন। ২০২৫ সালের জুনে থমাসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং আমরা ভবিষ্যতে দল সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সমর্থন দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বোর্ড মনে করেছে, মৌসুমের এই পর্যায়ে পরিবর্তন প্রয়োজন। ক্লাবে তার সময়জুড়ে তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও অঙ্গীকার দেখিয়েছেন। তার অবদানের জন্য ধন্যবাদ এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।’
এরপর টটেনহ্যামের কোচ কে হতে পারেন এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। বার্সেলোনার সাবেক কোচ ও কিংবদন্তি মিডফিল্ডার শাভি এর্নান্দেস, প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের পর ফ্রেঞ্চ লিগে মার্শেইয়ের দায়িত্ব নিয়েও গত ফেব্রুয়ারিতে ছেড়ে দেওয়া রবের্তো দে জেরবি, টটেনহ্যামেরই সাবেক ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো, টটেনহ্যামের সাবেক স্ট্রাইকার ও বর্তমানে ফেরেঙ্কভারোসের কোচ রবি কিন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। অবশ্য পচেত্তিনোকে আনতে হলে আগামী জুনে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, সে ক্ষেত্রে ফ্র্যাঙ্কের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জনি হেইটিঙ্গাকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন আছে।



