আগে থেকে তেমন কোনো ঘোষণা নেই, প্রচারণা নেই। হঠাৎই আজ দেখা গেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন তুর্কি বংশোদ্ভুত জার্মান বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুৎ ওজিল! কিছু ছবি আর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হঠাৎ এই সফরের কারণ কী? তুরস্কের সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা টিকা-র একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনে অংশ নিতেই মূলত মেসুত ওজিলের এই ঝটিকা সফর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টিকা’ নামের একটি প্রজেক্ট উদ্বোধনের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন সাবেক এই ফুটবলার।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ানের সফরসঙ্গী হিসেবে মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছান ওজিল।
শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নমূলক কাজে ঢাবি প্রশাসনকে সাহায্য করছে তুর্কি সরকারের আওতাধীন ‘টিকা’ নামের একটি প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টেরই উদ্বোধন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন ওজিল।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় এবং তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা) যৌথভাবে এই সফরের আয়োজন করেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলটি আগামীকাল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে প্রথম রমজানের ইফতারে অংশ নেবেন এবং ক্যাম্পের আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখবেন।
সফর শেষে আগামীকাল রাতেই বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন সাবেক এই জার্মান সুপারস্টার।
২০১৮ বিশ্বকাপের আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ওজিল ও তুর্কি বংশোদ্ভুত আরেক জার্মান ফুটবলার ইলকায় গুন্দোয়ানের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ছবিটা তোলা হয়েছিল তুরস্কের জাতীয় নির্বাচনের আগে। এ নিয়ে জার্মানিতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়, ২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ওজিল-গুন্দোয়ানের দিকেই তোপ দাগা হয় বেশি। এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালেই জার্মানি জাতীয় দল থেকে অবসর নেন ওজিল।
ক্লাব ক্যারিয়ারে রেয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনালের মতো ক্লাবে খেলা ওজিল ২০২৩ সালে ফুটবল থেকেই অবসর নেওয়ার আগের তিন বছর খেলেছেন তুরস্কের দুই ক্লাব ফেনেরবাচে ও ইস্তাম্বুল বাসাকসেহিরে।
২০২৫ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন ওজিল। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরই দল একে পার্টির দলীয় কংগ্রেসের পর দলটির ‘সেন্ট্রাল ডিসিশান অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বোর্ডে’ ওজিলের নাম যোগ করা হয়।
বাংলাদেশে ওজিল – এবং তাঁর সফরসঙ্গী বিলাল এরদোয়ানের - এই ঢাকা সফর আসছে এমন এক সময়ে, যখন গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব সুপ্ত থেকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্য হয়ে ওঠার পথে বলে আলোচনা চলছে।



