ম্যাচের আগে ‘অসম্ভবকে সম্ভব’ করার কথা বলেছিলেন বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিক। সেই অসাধ্য সাধনে কাম্প ন্যুতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রাণপণ লড়ে গেলেন লামিন ইয়ামাল-রাফিনিয়া-মার্ক বেরনালরা। সে লড়াইয়ে তুলে নিলেন ৩-০ ব্যবধানের জয়ও।
কিন্তু কোপা দেল-রের ফাইনালে উঠতে সেটা যথেষ্ট হলো না। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকেই বাদ পড়েছে হানসি ফ্লিকের দল। এতে নিশ্চিত হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাতালান ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দলকে স্প্যানিশ ঘরোয়া কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতাতে পারছেন না ফ্লিক। ম্যাচ শেষে বার্সা কোচ জানিয়েছেন, এমনভাবে বিদায় নিয়ে হতাশ হলেও শিষ্যদের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত।
ফ্লিক গর্ব করতেই পারেন। গত মাসে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকোর মাঠে গিয়ে ৪-০ ব্যবধানে হারার পর অনেকে তখনই টুর্নামেন্ট থেকে কাতালান ক্লাবটির বিদায় দেখে ফেলেছিলেন। তবে প্রথম লেগে এত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প আছে বার্সার ইতিহাসে।
২০১৬-১৭ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ৪-০ ব্যবধানে হেরেছিল বার্সা। পরের ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে দুর্দান্ত দাপটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬-১ ব্যবধানের জয় তুলে ইতিহাস গড়েছিল কাতালান ক্লাবটি। ৯ বছর আগে মেসি-নেইমাররা যা করেছিলেন, গতকাল রাতে কাছাকাছি গেলেও সেটার পুনরাবৃত্তি করতে পারলেন না ইয়ামালরা।
অবশ্য একটা সময় মনে হয়েছিল, বার্সা বোধহয় সেই ইতিহাস আবার লিখতে যাচ্ছে। ২৯ মিনিটে ইয়ামালের দারুণ এক ক্রসে গোল করলেন বেরনাল। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে রাফিনিয়া ২-০ করতেই কাম্প ন্যুয়ের গ্যালারিতে স্লোগান শুরু হলো, ‘হ্যাঁ, আমরা পারি।’
ম্যাচের ৭২ মিনিটে বেরানালের গোল সেই রোমাঞ্চ আরও বাড়িয়ে দিল। কিন্তু সেখানেই শেষ। এরপর বহু চেষ্টা করেও আর গোলের দেখা পেল না বার্সা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয়, ২০১২-১৩ মৌসুমের পর এই প্রথম ও সব মিলিয়ে ২০ বারের মতো কোপা দেল রের ফাইনালের টিকিট পাচ্ছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এপ্রিলের ফাইনালে আতলেতিকোর প্রতিপক্ষ হবে সোসিয়েদাদ ও বিলবাওয়ের মধ্যকার জয়ী দল।
গতকাল ম্যাচ শেষ হতেই হেরেও যখন উচ্ছ্বাসে মাতেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ফুটবলাররা, অন্যদিকে ম্যাচ জিতেও বার্সার খেলোয়াড়রা যেন বিধ্বস্ত। পরে সংবাদ সম্মেলনে বার্সা কোচ বলেছেন, ‘আমরা হতাশ, কিন্তু পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব করতে পারি। এটা ছিল আমাদের দারুণ একটা ম্যাচ। আমরা আরও গোল করার অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি, আর তা মেনে নিতে হবে।’
এই ম্যাচে না হলেও বার্সার যে এই মনোভাব নিয়ে সামনে খেলতে হবে, সেটার কথাও বলেছেন ফ্লিক, ‘এই মানটাই আমাদের মানদণ্ড হওয়া উচিত। প্রতিটা ম্যাচে সেটা দেখাতে হবে। এটা এমন কিছু নয়, যা আপনা আপনি হয়ে যাবে, বরং এটার জন্য কঠোর পরিশ্রম দরকার।’
কোপা দেল রে হাতছাড়া হলেও মৌসুমের অন্য শিরোপা গুলোর দিকেই এখন নজর বার্সা কোচের, ‘লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখনও অনেকটা পথ বাকি। সামনে নিউক্যাসলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তিন-চার দিন পরপর ম্যাচ খেলতে হবে— আগামী কয়েক সপ্তাহ ও কয়েকটা মাস এটাই আমাদের কাজ।’
ফ্লিক যোগ করেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগে আমরা অনেক দূর যেতে চাই। আর সে কারণে আমাদের এভাবেই খেলতে হবে। বল পুনরুদ্ধার ও মনোযোগ ধরে রাখা— দলের কাছে আমি এটাই চাই। আজ (মঙ্গলবার) আমরা যে মানের ফুটবল খেলেছি, এটা অবিশ্বাস্য। এই দলটা দুর্দান্ত আর সেটা নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত।’



