কয়েক বছর ধরে গুঞ্জন চলার পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রেয়াল মাদ্রিদে নাম লেখান কিলিয়ান এমবাপ্পে। যে লক্ষ্য নিয়ে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন এমবাপ্পে, সেটা পূর্ণতা পায়নি। অবশ্য দলগত সাফল্য না পেলেও ব্যক্তিগতভাবে ঠিকই আলো ছড়িয়ে চলছেন এমবাপ্পে। লস ব্লাঙ্কোদের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলা ১০০ ম্যাচে ৮৫ গোল আর ১১ অ্যাসিস্ট সে কথাই বলে।
কিন্তু এমবাপ্পেকে নিয়ে চমকে দেওয়ার মতো খবর দিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপ। এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নিজের আচরণের কারণে রেয়াল মাদ্রিদে সতীর্থদের বিরক্তির কারণ উঠেছেন এমবাপ্পে। ক্লাবটির অধিকাংশ খেলোয়াড়ই এমবাপ্পের আচরণে অসন্তুষ্ট বলে দাবি লে’কিপের।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ ও মাঠের বাইরে এমবাপ্পে অত্যন্ত ‘আত্মকেন্দ্রিক’ মনোভাব দেখাচ্ছেন, যা ক্লাবের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। পাশাপাশি, এমবাপ্পে রেয়াল মাদ্রিদ যে বিশেষ সুবিধাগুলো পান, সেটাও অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে এমবাপ্পে যখন পিএসজিতে ছিলেন, তখনও তাঁর বিরুদ্ধে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে মেসি-নেইমার এক হওয়ার পর এমবাপ্পেই ক্লাবের সর্বেসর্বা ছিলেন। এবার একই অভিযোগ উঠল রেয়াল মাদ্রিদেও।
অভিযোগ উঠেছে, অনুশীলনের সময় এমবাপ্পে ক্লাবের এক স্টাফের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেছিলেন। এছাড়া একবার দলীয় লাঞ্চেও ৪০ মিনিট দেরিতে হাজির হয়েছিলেন এমবাপ্পে। দুই ক্ষেত্রেই ফরাসি তারকাকে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।
লে’কিপ আরও জানিয়েছে, এ ধরনের নানান কারণে রেয়াল মাদ্রিদে অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছেন এমবাপ্পে। ফলে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে শুধু মদি, চুয়ামেনি ও কামাভিঙ্গার মতো ফরাসি সতীর্থদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এমবাপ্পে।
তা সতীর্থদের সঙ্গে এসব দূরত্ব কি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করছেন এমবাপ্পে?
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, সম্প্রতি রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া যে ম্যাচে চোট পান এমবাপ্পে, ওই চোটটা রেয়াল মাদ্রিদ থেকে নিজেকে দূরে রাখার ‘সুবিধাজনক অজুহাত’ হতে পারে।
সূত্রের বরাতে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, ক্লাব নিয়ে এমবাপ্পেও ‘বিরক্ত’ হয়ে পড়েছেন। আর সে কারণে ড্রেসিংরুম ও কোচিং স্টাফ- দুই দিক থেকেই কিছুটা দূরত্ব চান তিনি। সম্প্রতি জুড বেলিংহামের সঙ্গেও একাধিকবার দ্বন্দ্ব লেগেছিল এমবাপ্পের। বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গেও ফরাসি তারকার সম্পর্কটা উষ্ণ নয়। এর পেছনে কারণ হিসেবে ওইসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় এমবাপ্পে কিছুটা অসন্তুষ্ট। অবশ্য ব্রাজিলিয়ান তারকার সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের টানাপোড়েনের সম্পর্কে এর আগেও সংবাদমাধ্যমে এসেছিল।
একাধিক স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আরবেলোয়ার অধীনে এমবাপ্পের চেয়ে ভিনিসিয়ুস নিজেকে বেশি মূল্যায়িত মনে করেন। তবে শিরোপাহীন মৌসুম কাটানোয় রেয়াল মাদ্রিদে আরবেলোয়া অধ্যায় অনেকটাই শেষের পথে। এরই মধ্যে গোপনে নতুন কোচ খোঁজা শুরু করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। যা এমবাপ্পের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হতে পারে!



