ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

হলান্ডই কি ভেঙে দেবেন ব্রাজিল কোচের মাস্টারপ্ল্যান?

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

বিশ্বকাপের আরেকটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। আজ (রোববার) দিবাগত রাত ২টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর এক ব্লকবাস্টার লড়াই দেখতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। একদিকে হেক্সা মিশনে থাকা বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল, আর অন্যদিকে ট্রানজিশনাল ফুটবলের ইউরোপের অন্যতম সেরা দল নরওয়ে।   

এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে বড় প্রশ্ন একটাই- ব্রাজিল কি পারবে আরলিং হলান্ডের দানবীয় ঝড় থামাতে? নাকি এক হলান্ডেই শেষ হয়ে যাবে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন? এই গোলমেশিনকে থামাতে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির মাস্টারপ্ল্যান কি কাজে দেবে? ম্যাচের আগে চলুন এই ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হয়ে যাক: 

দু'দল যেভাবে এল শেষ ষোলোতে

প্রথমেই দেখা যাক, এই দুই দল কীভাবে শেষ ষোলোতে পৌঁছাল। কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে নিজেদের চেনা পজেশন-ভিত্তিক ফুটবলই খেলেছে। মরক্কোর সাথে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, হাইতি এবং স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটের টিকিট পায় সেলেসাওরা। আর রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও কাসেমিরো আর গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

অন্যদিকে, স্তেল সোলবাকেনের নরওয়ে এই টুর্নামেন্টের শক্তিশালী দলগুলোর একটি। প্রথম দুই ম্যাচেই ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলে দলটি। যদিও শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় একাদশ মাঠে নামিয়ে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে। তবে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৮৫ মিনিটে আরলিং হলান্ডের গোলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার নকআউট রাউন্ডে জয় তুলে নেয় নরওয়ে।  

নরওয়ের ডেডলি ট্রানজিশন ও আর্লিং হলান্ড

এবারে চোখ রাখা যাক, নরওয়ের শক্তিমত্তার জায়গায়। কোথায় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এই দলটি? নরওয়ের এই দলটি বল পজেশনের খুব একটা তোয়াক্কা করে না। তারা বরং মাঝমাঠে মিড-ব্লকে কম্প্যাক্ট থাকে এবং বল কেড়ে নিয়ে চোখের পলকেই 'ভার্টিক্যাল ট্রানজিশন' বা কাউন্টার অ্যাটাকে ওপরে ওঠে। আর এভাবে খেলেই এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে তারা ১৮টি 'বিগ চ্যান্স' তৈরি করেছে। 

নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম 'দ্য সাইবর্গ' বা রোবট নামে পরিচিত আরলিং হলান্ড। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই গোলমেশিন বক্সের ভেতরে যেকোনো ডিফেন্সের জন্যেই এক আতঙ্কের নাম। অতিমানবীয় উচ্চতা, দুর্দান্ত গতি, আর গোল করার যান্ত্রিক ক্ষমতা- সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সেন্টার ফরোয়ার্ড বোধহয় তিনিই। নাম্বার নাইনের ভূমিকায় 'ফক্স ইন দ্য বক্সের' এক আদর্শ উদাহরণ ২৫ বছর বয়সী এই ম্যান সিটি তারকা।  

প্রথমবার বিশ্বকাপে এসে ৩ ম্যাচে ৫ গোল করে ইতোমধ্যেই গোল্ডেন বুটের দৌড়েও আছেন আরলিং হলান্ড। প্রতিপক্ষের এক একটি ভুল তাঁর জন্য এক একটি গোলের সুযোগ। তাই ব্রাজিলের ডিফেন্সে সামান্যতম মনোযোগের ঘাটতি হলেই এক মুহূর্তে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন হলান্ড। 

তবে হলান্ড নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা হলেও দলটিতে আরও কয়েকজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছেন। বলতে গেলে এক গোল্ডেন জেনারেশন নিয়েই তাঁরা বিশ্বকাপে এসেছে। এই যেমন তাঁদের ‘কুইক ট্রানজিশনাল’ কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের মাস্টারমাইন্ড হলেন দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড, যার প্রেস-রেজিস্ট্যান্ট পাসিং নরওয়ের কাউন্টার অ্যাটাকের প্রাণ। বলা চলে, মাঝমাঠ থেকে অরকেস্ট্রার কনডাক্টরের ভূমিকা পালন করে থাকেন এই আর্সেনাল তারকা। 

এছাড়া লেফট উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা আর লেফট ব্যাক ডেভিড মোলার ওলফের নিখুঁত ক্রসগুলো বক্সের ভেতরে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয় আর্লিং হলান্ড ও তাঁর সতীর্থ আলেক্সান্দার সরলথের জন্য। 

নরওয়েজিয়ান ঝড় থামাতে আনচেলত্তির মাস্টারপ্ল্যান?

এবারে প্রশ্ন হচ্ছে, ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি কীভাবে থামাবেন এই নরওয়েজিয়ান ঝড়? এখানেই চলে আসে 'আনচেলত্তি-ইজম' বা আনচেলত্তির মাস্টারপ্ল্যান প্রসঙ্গ। তিনি মাঠের ভেতরের বিশৃঙ্খলা বা চাপ দূর করার চেষ্টা করেন না, বরং শান্ত থেকে মাথা ঠান্ডা রাখার মন্ত্র দেন তাঁর শিষ্যদের। জাপানের বিপক্ষে হাফটাইমে পিছিয়ে পড়ে দল যখন দিশেহারা, কিংবা কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলের পর পুরো দল যখন উল্লাসে মাতোয়ারা, তখন ডাগআউটে আনচেলত্তি সবাইকে শান্ত হতে বলেন।

হলান্ডকে থামাতে কার্লো আনচেলত্তির মূল পরিকল্পনা হলো, নরওয়ে যখনই কাউন্টারে ওঠার চেষ্টা করবে, ব্রাজিলের মিডফিল্ড যেন ওডেগার্ডের পাসিং লেনগুলো ব্লক করে দেয়। ওডেগার্ড যদি বল সাপ্লাই দিতে না পারেন, বক্সের ভেতরে হলান্ডকে আটকানোর কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে ব্রাজিলের দুই সেন্টারব্যাক মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহাসের জন্য। 

পাকেতার অনুপস্থিতিতে আনচেলত্তি মাঝমাঠের ব্যালেন্স ধরে রাখতে দানিলো সান্তোস বা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে দিয়ে প্রথম একাদশ সাজাতে পারেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরতেই নষ্ট করে দেওয়ার যে দক্ষতা পাকেতার আছে সেটা দানিলো সান্তোস বা মার্তিনেল্লি কতটা করে উঠতে পারবেন সেটার ওপর এই ম্যাচে ব্রাজিলের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।  

ভিনিসিয়ুসের আক্রমণকে ধারালো করতে ব্রাজিল সবসময় ডিফেন্সকে ওপরে তুলে খেলে থাকে, অর্থাৎ হাই-ডিফেন্স লাইন নিয়ে অপারেট করে। আর এর ফলে ব্রাজিলের ডিফেন্স লাইনের পেছনে অনেকটা স্পেস তৈরি হয়। দ্রুত গতির ফিজিক্যাল স্ট্রাইকার আরলিং হলান্ড এই স্পেসটাকেই কাজে লাগাতে চাইবেন। এক্ষেত্রে ব্রাজিলের দুই সেন্টারব্যাক মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহাসকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে হলান্ডের সাথে গতির লড়াইয়ে তাঁরা পিছিয়ে না পড়েন।

ব্রাজিলের শক্তিমত্তা

ব্রাজিলের মূল শক্তি হলো দুই উইং দিয়ে তাঁদের আক্রমণ। বিশেষ করে লেফট উইংয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি আর ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভয় ধরাতে বাধ্য। এবারের আসরে ইতোমধ্যেই ৪ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট নিয়ে ভিনি ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছেন। সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল মাগালহাসের মতো ডিফেন্ডাররা ৬০ শতাংশের বেশি এরিয়াল ডুয়েল জিতে ডিফেন্সকে আগলে রাখার কাজটা করে যাচ্ছেন।

নেইমার কি খেলবেন? 

এবারে আসা যাক নেইমার ইস্যুতে। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য শতভাগ ফিট আছেন। কিন্তু ব্রাজিলের পরিকল্পনা হচ্ছে, নেইমারকে ৩০ মিনিটের বেশি খেলানো হবে না। কারণ নেইমারকে নাম্বার টেনের ভূমিকায় ফ্রি খেলানো হলে ভিনিসিয়ুসকে কেন্দ্র করে তৈরি পুরো সিস্টেমটাই বদলাতে হবে। সেক্ষেত্রে ভিনিসিয়ুসের জন্য বাকিদের যে পরিমাণ ট্রাকব্যাক ও প্রেস করতে হয়, অর্থাৎ ডিফেন্সিভ লোড নিতে হয়, সেই ট্যাকটিক্যাল ব্যালেন্সটা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই নেইমার হচ্ছেন আনচেলত্তির ইমারজেন্সি বা আপদকালীন ট্রাম্প কার্ড। 

অর্থাৎ, ম্যাচে দল পিছিয়ে থাকলে, বা গোলের প্রয়োজন হলে, বড়জোর ৩০ মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হবে নেইমারকে, যাতে তাঁর এক মুহূর্তের কোনো ম্যাজিকে ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়াতে পারে, বা ম্যাচে ফিরে আসতে পারে। কেননা অ্যাটাকিং থার্ডে ম্যাজিকাল কোনো টাচ, কিংবা কঠিন কোনো অ্যাঙ্গেল থেকে নেওয়া শটে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও রাখনে ব্রাজিলের এই লিজেন্ড।  

ইতিহাস কি বলছে?

এই ম্যাচের আগে ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে না। এখন পর্যন্ত ৪ বারের দেখায় ব্রাজিল একবারও নরওয়েকে কখনো হারাতে পারেনি। ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর ২টিতে জয় পেয়েছে নরওয়ে, যার একটি আবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। ইতিহাস আরও বলছে, ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপিয়ান দলকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। 

ইতিহাস যাই বলুক, ব্রাজিলের ডাগআউটে আছেন পাঁচ পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের এক মাস্টারমাইন্ড ডন কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর দলগুলো খুব ভালো করেই জানে, সকল প্রতিকূলতা ও বিশৃঙ্খলা সহ্য করেও কীভাবে ম্যাচে টিকে থাকতে হয়। 

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের এই ম্যাচটি শুধুই একটি ফরমেশনের খেলা নয়, বরং লড়াইটা অনেকটাই স্নায়ুর। আনচেলত্তির শান্ত মস্তিষ্ক কি পারবে হলান্ড-ওডেগার্ডদের ঝড় থামিয়ে ব্রাজিলের ইউরোপীয় জুজু কাটাতে? নাকি হলান্ডের দানবীয় ফিনিশিংয়ে ভেস্তে যাবে আনচেলত্তির মাস্টারপ্ল্যান? উত্তরটা সময়ই দেবে।

প্যারাগুয়ে নেতিবাচক ও মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসী ফুটবল খেলায় ফ্রান্সও একই ধরনের কৌশল বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। জার্মানিকে যে ছকে বিদায় করেছিল প্যারাগুয়ে, এবার ফরাসিদের...
২০১২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট যাদের জন্ম, তারা আবেদন করতে পারবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট (কারাতে, উশু, তাইকোয়ানডো, জুডো), সাঁতার,...
শুধু নরওয়ের বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যান নয়, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ গুলোতে ইউরোপের দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সও যাচ্ছেতাই! ২০০২ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে পরের পাঁচ বিশ্বকাপেই ইউরোপের দলের...
পাকেতার পরিবর্তে মিডফিল্ডে কে খেলবেন, সেটা নিয়ে আনচেলত্তি সরাসরি কিছু না জানালেও ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ইস্পোর্তে জানাচ্ছে, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে শুরুর একাদশে খেলাবেন ব্রাজিল কোচ।...
বাংলাদেশ পুলিশের কিছু বড় পদে ব্যাপক রদবদলের পর এবার একসঙ্গে ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি)...
হাম, ডেঙ্গু, কোভিডের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা দেখিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের মতো হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন...
বরিশাল থেকে ফরিদপুরগামী যাত্রীবাহী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা এপাচি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক নগরকান্দা উপজেলা নাওডুবি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের ছেলে  ফাহিম...
একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে আবুল কাসেমের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে...
লোডিং...

এলাকার খবর