বরিশালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমডিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং মারধরের পর ৬টি স্ট্যাম্প ও চেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির আব্দুল আজিজ (৬৮)। তিনি বরিশাল নগরীর বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির চেয়ারম্যান ও অগ্রনী হাউজিং কোম্পানির এমডি। গত ২৭ জুন তাঁর নিজ অফিস কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি যুবদলের সদস্য বলে জানা গেছে। তবে তিনি যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে জানিয়েছে জেলা যুবদল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন ব্যক্তি আব্দুল আজিজের অফিস কক্ষে ঢোকেন। এ সময় বৃদ্ধ বয়সী আব্দুল আজিজকে মাটিতে ফেলে মারধর করে কিছু কাগজে সই করিয়ে নেন অভিযুক্তরা। পরে তারা কাগজগুলো নিয়ে তার সাথে ছবি তোলেন।
ঘটনার বিষয়টি তুলে ধরে ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আজিজ জানান, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সাবেক হোল্ডার মো. মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ বেশ কয়েকজন তাঁর কার্যালয়ে এসে তাকে শারীরিক লাঞ্ছিত ও মারধর করে। এসময় তাঁর কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। এছাড়াও ওই সময় তাঁর কাছ থেকে জোর করে লিখিত ৬টি স্ট্যাম্পে ও চেকে স্বাক্ষর নেন তারা।
এ ঘটনায় মো. আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল কালাম ও আব্দুল মালেকের নামে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান বরিশাল যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বরিশার মহানগর যুবদলের সভাপতি মাসুদ হাসান মামুন। এমনকি তিনি তাঁর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যও নন বলে জানান তিনি।
মাসুদ হাসান মামুন জানান, যুবদল এই ব্যক্তির গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেছে।
বরিশাল মেট্রপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানিয়েছেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



