চলছে কোপা আমেরিকা। বিশ্বকাপের পর ফুটবলের এই আসর নিয়েই বাংলাদেশে হল্লা হয় বেশ। এর মূল কারণ অবশ্যই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। যেহেতু এ দেশের বেশির ভাগ ফুটবল ভক্ত এই দুই শিবিরে বিভক্ত, ফলে কোপাতেও সেই কেন্দ্রিক কথার লড়াই বা প্রকারান্তরে কোপাকুপি শুরু হয়ে যায়।
এবার কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট উপলক্ষে হলুদ ও সাদা–আকাশী নীল রঙের এ দেশীয় শিবিরের পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে নেমেছে ‘সরস’ টিম। এরই মধ্যে একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকের কল্পিত সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এর কারণ হিসেবে হলুদ জার্সি পরিহিতদের ‘সন্ত্রাসী’ মনোভাবকে দায়ী করেছেন তিনি।
তবে অনেক তদবিরের পর নিজের একটি ছদ্মনাম জানিয়েছে সেই আর্জেন্টিনা সমর্থক। সেটি হলো ‘মেসিলোনি’।
চলুন, পড়ে ফেলা যাক মেসিলোনির নেওয়া সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত।
প্রশ্ন: ব্রাজিল এবার কোপায় সেভাবে সুবিধা করতে পারছে না। কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: ওরা পারবে না। ওরা পারে না। এটাই আমরা গত ৩৬ বছর ধরে বলে আসছি। আগে গলায় জোর একটু কম ছিল। মাঝে ওরা আবার কিছু কাপ‑টাপও পেয়েছে। তাই আমাদের এই দাবি পাত্তা পায়নি ততটা। তবে গত বছর দেড়েক ধরে সেই অবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আমরা শক্তিশালী হয়েছি। বডি ও মনের সবটা দিয়ে আমরা এখন খেলছি।
প্রশ্ন: বডির সবটা দিয়ে মানে কী? এমনিতেই তো হাত নিয়ে একটা…
উত্তর: দাঁড়ান, দাঁড়ান। হাত আনবেন না। কথার মধ্যে বাঁ হাত ঢোকাবেন না। যে হাতের কথা ব্রাজিলের সমর্কেরা বলে থাকেন, যা দিয়ে কুৎসা রটানো হয়, ওই হাত শুধু হাত নয়। ওই হাত মানুষের নয়, বরং ‘হ্যান্ড অব গড’। বিদেশিরাই এটা স্বীকার করে নিয়েছে অনেক আগে। এ দেশের ব্রাজিলের সমর্থকেরা এটা নিয়ে হুদাই চিল্লাপাল্লা করে।
প্রশ্ন: এবারের কোপায় কিন্তু হাতের বিষয়টি আলোচনায় পরে এসেছে। আগে আসছে পা। এটি নিয়ে কী বলবেন?
উত্তর: দেখুন, এটা সমালোচনা করার মতো কোনো বিষয় নয়। খুবই নিরীহ একটি বিষয়। মনে রাখতে হবে, পা কিন্তু হাত দিয়েই ধরা হয়েছে। এর আগে গোলে হাতের ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে নতুন একটি মাত্রা নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তাতে আটকে গেলে তো হবে না। তাই এবার আমরা পা ধরে এগোতে চেয়েছি। এটা অনেকটা হাতেপায়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়। পা তো এমন কোনো জিনিস নয় যে, এটি ধরা যাবে না। পা ধরাই যায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আরেকটি নতুন মাত্রা নিয়ে আসা হলো। ব্রাজিল সমর্থকেরা না বুঝেই এটা নিয়ে কথা বলছে। পারলে ওরা (ব্রাজিল) ঠিকমতো পা ধরে দেখাক! ঠিকমতো পা ধরাটাও একটা আর্ট, একটা শিল্প। এটা বুঝতে হবে।
প্রশ্ন: মেসিই কি সব? মেসি না থাকলে?
উত্তর: হ্যাঁ, মেসিই সব। এখন তো স্কালোনিও আছে। প্রয়োজনে কোচও মাঠে নেমে যেতে পারবে। তবে মেসি থাকছেনই। আগে ম্যারাডোনা ছিলেন। তাঁকে দিয়ে কয়েক দশক কাটানো গেছে। ওতেই আমাদের ধৈর্য্য অসীম পর্যায়ে চলে গেছে। এবার আশা করি মেসিকে ধুয়ে আরও কয়েক যুগ কাটিয়ে দেওয়া যাবে। মেসির বয়স যতই হোক, উনি খেলে যাবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা। প্রয়োজনে নাতিপুতি হয়ে গেলেও তিনি খেলবেন, মাঠে নামবেন। প্রয়োজনে তাঁকে জোর করে মাঠে নামানো হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
প্রশ্ন: ব্রাজিলের সবকিছুই কি বাঁকা চোখে দেখেন? কিছুই কি ভালো লাগে না?
উত্তর: একমাত্র সেভেন‑আপই ভালো লাগে। ২০১৪ সালের পর থেকে আমি অন্য কোনো পানীয় মুখে নিই না। এমনকি পানিও খাই সেভেন‑আপে মিশিয়ে। ব্রাজিলের এই একটা জিনিসই আমার সবচেয়ে পছন্দের। ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত আমাদের লড়াইটা একটু একপেশে ছিল। ওরা শুনিয়ে যেত, আমরা শুনে যেতাম, মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে সিন বদলে গেছে। এখন আমরা জোর গলায় বলি, ‘খেলা হবে’! উল্টো আমরা এখন শুনিয়ে যাওয়ার মওকা পেয়েছি। আমরা আশাবাদী যে, এবারও কোপার কাপে সেভেন‑আপ ঢালা যাবে!
[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এরপরই মেসিলোনি কথা বলতে বলতে গলা শুকিয়ে গেছে বলে পানিতে সেভেন‑আপ মিশিয়ে পান করা শুরু করে দেন। এরপর তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় পা বাঁচাতে সরস প্রতিবেদক তড়িঘড়ি বাড়ির পথ ধরেন!]



