রম্য টিপস

ডরে আপনার শরীর কাঁপতে থাকলে যা করবেন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১০:১১ পিএম

ভয় পাওয়া মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। মানুষ ভয় পায়। আবার এক মানুষই অন্যকে ভয় দেখায়। নানা রূপে, নানা তরিকায় এই ভয় দেখানো হয়, পাওয়ানো হয়। অবস্থা এমন হয়েছে যে, বাজারে গেলেও মানুষ ভয় পায়। বাড়িওয়ালা কোনো কারণে ডাক দিলেও ভাড়াটেরা ভয় পায়। আবার অন্য দেশে অন্য কেউ ক্ষমতায় গেলেও সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য কেউ শুধু শুধু ভয় খেয়ে যায়!

ইংরেজিতে ভয়ের প্রতিশব্দ হলো fear। ক্যামব্রিজ ডিকশনারি বলছে এর অর্থ হলো, একটি অপ্রীতিকর বা নিরানন্দ আবেগ, যা মানুষ ভীত বা উদ্বিগ্ন হলে অনুভব করে। সাধারণত কোনো বিপজ্জনক, যন্ত্রণাদায়ক বা খারাপ ঘটনা ঘটছে বা ঘটতে পারে এই শঙ্কায় এমনটা অনুভূত হয়। বাংলা ডিকশনারি অনুযায়ী ভয় একটি বিশেষ্য পদ। এর অর্থ হলো, মনের শঙ্কিত অবস্থা, ডর বা গ্রাস ইত্যাদি।

ভয় বা ডর পাওয়া যেতেই পারে। ভয় পাওয়াও কিন্তু মানুষের মানবিক অধিকার। কিন্তু হ্যাঁ, ভয় দেখানোটা তা নয়। তারপরও একজন ভয় দেখায়, আরেকজন তা পায়। প্রশ্ন হলো, ভয় পেলে বা ডরে আপনার তনুমনে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেলে কী করবেন?

চলুন, এ দেশের বর্তমান অবস্থায় এমনই কিছু পরিস্থিতি নিয়ে একটা পর্যালোচনা করা যাক। বিশেষ করে কোন কোন পরিস্থিতিতে আপনার কাঁপাকাপি বন্ধ করতে কী কী করতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হোক। কারণ, বাঁচতে তো হবে!

এই যেমন বাজারে গেলে ডরে আপনার শরীর কাঁপা শুরু হয়ে যেতেই পারে। সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, দেশের বাজারে সবজির দামও নাগালের বাইরে। বেশ কয়েক দিনে দেশের বাজারগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সবজি দাম। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্রেতারা। তবে শীতকালীন সবজি বাজারে ঢোকায় কিছুটা কমতে শুরু করেছে দাম। তবে ক্রেতারা বলছেন, এখনও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়েছে সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার কারণে উৎপাদন কম। তাই নতুন সবজির দাম সেভাবে কমছে না। কিন্তু এসব মানতে চাইছেন না ক্রেতারা। তাদের কথা, দাম বাড়াতে সব সময় প্রস্তুত থাকে ব্যবসায়ীদের অজুহাত।

তা থাকতেই পারে। বাজারের ব্যবসায়ীদের ডান, বামের বাইরে আরেকটি হাত থাকা তো নতুন কিছু নয়। অনেকদিন ধরেই আছে। আগে তো ইউক্রেনের কারণে এ দেশের বাজারে আলুর দাম বেড়ে যেত, মরিচও কম যেত না। এবার তো তাও দেশের গন্ডি মেনেছে। এও বা কম কী!

তবে হ্যাঁ, হুট করে আলু, টমেটো, গাজর, শিম, লম্বা বেগুন, গোল বেগুন—সবেরই কেজিপ্রতি ১০০ বা ১৫০ টাকা দাম শুনলে ডর আপনার লাগতেই পারে। তা থেকে শরীরে কাঁপুনিও আসতে পারে। সেক্ষেত্রে শুরুতেই ভেবে নিতে পারেন যে, আপনার আয় টাকায় না, আসলে ডলারে হয়! দেখুন, মানুষের মনের ভয়ই আসল ভয়। তাই যদি মনকে একবার মানিয়ে নিতে পারেন, যদি ভুল বুঝিয়েও বাগে আনা যায়, তবে মন্দ কী? কাঁপুনি বন্ধ হওয়াই আসল কথা!

আবার ধরুন, বছরের শেষ যেহেতু, সেহেতু আপনার বাড়িওয়ালা ‘খোশ গল্প’ করতে আপনাকে ডাকতেই পারেন। এটা সেটা বলতে বলতে জানিয়ে দিতেই পারেন যে, জানুয়ারি থেকে কিন্তু…! এমনটা হলে কাঁপুনি শুরুর সময় থেকেই নিজেকে বোঝান যে, আপনি ভাড়াটে এবং বাড়িওয়ালা আপনার কাছ থেকে একটু বেশি বেতন চাচ্ছেন কেবল। নিজের কর্মস্থলে আপনিও তো একটু বেশি আয় প্রত্যাশা করেনই। তো বাড়িওয়ালা কি একটু বেশি বেতন চাইতে পারেন না? এভাবে ভাবলে দেখবেন, একটু হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন!

আসলে দিনকাল যা পড়েছে, একটু চালাক না হলে টিকে থাকা কঠিন।

অন্যদিকে রাস্তা–ঘাটেও কিন্তু ঝামেলা কম না। রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অথবা আপনি আরও বড়লোক হলে উবারেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, যাতে ডরে আপনার শরীর কাঁপা শুরু হতে পারে। ভাড়ার তো কোনো আম্মু–আব্বু এ দেশে নেই। ফলে হুট করে এমন কিছু চেয়ে বসতে পারে, যাতে দেখা গেল থরহরি কম্প শুরু হয়ে গেছে।

সেক্ষেত্রে কাঁপাকাঁপি শুরু হলেই বড় করে শ্বাস নিন। বুক ভরিয়ে ফেলুন বাতাসে। স্রেফ আপনার দেহের কোমরের নিচের অংশে নজর দিন। ওখানে দেখবেন দুটি পা আছে। পা থাকতে কেন হাত ব্যবহার করে নিজের মানিব্যাগ হালকা করবেন? বলুন, যুক্তি আছে আপনার কাছে? শুরু করে দিন পায়ের উত্তম ব্যবহার, দেখবেন চলবে ঠিকই। চাইলে পুরো পথেই কাজে লাগাতে পারেন, আবার কিছুটা কাজে লাগিয়ে ভাড়ার পরিমাণ কমিয়েও নিতে পারেন। আখেরে লাভ আপনারই হবে।

প্রসঙ্গ উঠতেই পারে যে, আল্টিমেটাম পেলেও কি ডরে শরীর কাঁপা ঠেকানো সম্ভব? এক কথায় উত্তর যে, হ্যাঁ, সম্ভব।

এটি ঠিক যে, আল্টিমেটাম একটা চরম অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এটা শুনলেও ডর লাগে। আপনি অফিসে বা বাসায় বা ফেসবুকে আল্টিমেটাম পেতেই পারেন নানাভাবে। ধরুন, বস আপনাকে ঠিক সময়ে অফিসে আসার জন্য আল্টিমেটাম দিয়ে দিল। অথবা প্রিয়জন আপনাকে দ্রুত বাসায় ফেরার আল্টিমেটাম দিল। আবার ফেসবুকে ফ্রেন্ড সার্কেলও আপনাকে ট্যুরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে দিতে পারে।

দেখুন, আল্টিমেটাম মানেই মনে হতে পারে যে, ডু অর ডাই সিচুয়েশন চলে এসেছে একেবারে। একটু আঞ্চলিক রূপে বোঝালে হয়তো আরও ভালো বোঝানো যাবে। অর্থাৎ, কেউ আপনার গলায় প্রায় পাড়া দিয়েই ফেলেছে! মানে একেবারে দুই পেন্সিল দূরত্বে পা রেখে চোখ–মুখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছে, এই তো?

এভাবে আসলে হয় না। একেক দেশের একেক রীতি। আমাদের দেশটা আমাদের মতোই। তাই গলায় এমনভাবে তেল মাখিয়ে রাখতে হবে যেন আল্টিমেটামকারীর পা পিছলে যায়। মনে রাখবেন, তেল আমাদের জাতীয় সম্পদ। এতে বসও পিছলায়, প্রিয়জনও, আবার বন্ধুও। আপনি কোথায়, কীভাবে দেবেন বা মাখাবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে সব।

সুতরাং, বুঝতেই পারছেন, জীবনে একটু কায়দা করতেই হয়। তাহলেই দেখবেন, দুনিয়া ফুরফুরা।

ছবিটি প্রতীকী। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালতবে, রাত্রি দ্বিপ্রহরে কতিপয় ছুরিচালক মানবসন্তান পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে অত কায়দা খোঁজার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, জীবনটা বাংলা সিনেমার মতোই, হিরো–ভিলেনের মারামারির সময় সেখানে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করে না। আসে পরে। আর নিজেকে হিরো–হিরোইন যদি ভাবতেই চান, তবে ব্যাগে সব সময় ছোট্ট একটা আয়না রাখবেন। একবার তাতে নিজেকে দেখলেই ভুল ভেঙে যাবে নিশ্চিত!

এক্ষেত্রে কিছু পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন অবশ্য। একেবারে সাদাসিধা কাপড় পরবেন, প্রয়োজনে কিছু জায়গা ছেঁড়াও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে গরিব হিসেবে আপনি টার্গেট নাও হতে পারেন। জীবন যেখানে যেমন আর কি!

সে যাক গে। আজকের মতো টিপস দেওয়া শেষ। যা যা দেওয়া হলো, সেগুলো আগে অভ্যাস করা শিখুন। কঠিন কোনো কাজ নয়। জানেনই তো, মানুষ অভ্যাসের দাস বা দাসী। অর্থাৎ, নিজেকে হনু ভাবা বন্ধ করতে হবে। নিজেকে স্রেফ কামলা ভাবা শিখুন, দেখবেন দুনিয়া ফকফকা।

না হলে কিন্তু ডরে আপনার শরীর কাঁপতেই থাকবে। ‘ডরে আমার শরীর কাঁপতেছে’ লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেও কিন্তু সেই কাঁপুনি সহজে থামবে না। সুতরাং, কাঁপিয়া (বা ভাবিয়া) করিও কাজ, করিয়া কাঁপিও না!

ট্রাম্প ও মাস্ক–দুজনই খুবই উত্তেজিত। এই উত্তেজনার মধ্যেই শোনা গেল নতুন গুজব। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক নাকি আরও কিছুদিন ঝগড়া চালিয়ে যেতে চান। এর জন্য আরও পেশাদার প্রক্রিয়ায় দুজনে ঝগড়া করতে চান।...
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় দেখা গেছে ‘নতুন’ টেসলা! এই টেসলার গায়ে আবার লেখা আছে সাবধানবাণী। টেসলার লোগোর পাশের লেখাটি হচ্ছে—‘ সাবধান! আমি টেসলা’। এর পরেই আছে একটি অট্টহাসির ইমোজি। আর এমন ছবি...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো দুনিয়ায় একটা হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিয়েছেন। এমন ক্যাচালই লাগিয়েছেন যে, অন্যান্য দেশ চিঠি লিখতে লিখতে আর ‘স্যার, স্যার’ বলে ট্রাম্পকে ডাকতে ডাকতে নাকি গলা শুকিয়ে...
অনেক সময় জীবনে এমন অবস্থা আসে। যাই বলছেন, যাই লিখছেন, বা যাই করছেন, তাতেই গণ্ডগোল বেঁধে যাচ্ছে। লেখার বিষয়টা এল, কারণ যুগ তো এখন ফেসবুক–টুইটারের। ওতে ঝামেলা বরং আরও বেশি। আর এভাবে যখন একের পর...
সরকারিভাবে সারের কোনো সংকট নেই বলা হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। সারের অভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে কৃষকের ভোগান্তি। চাষিদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে সার না মিললেও খুচরা দোকানে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ী...
টানা তিন দফা কমার পর এবার দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার ভরিতে সর্বোচ্চ বেড়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
নাটোরে আনারুল ইসলাম নামের এক হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজারে এই ঘটনাটি ঘটে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের দলুগাজীর মোড় এলাকায় লোকাল বাসের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে...
লোডিং...

এলাকার খবর