সরকারিভাবে সারের কোনো সংকট নেই বলা হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। সারের অভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে কৃষকের ভোগান্তি। চাষিদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে সার না মিললেও খুচরা দোকানে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলারদের কারসাজির কারণে তৈরি হয়েছে সংকট। যদিও ডিলারদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত সার। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারের সঠিক ব্যবস্থাপনার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সারের সংকট নেই। কোনো জায়গায় সার বিতরণ নিয়ে গণমাধ্যমে অনিয়মের তথ্য এসেছে।
এদিকে নওগাঁর এক কৃষক বলেন, ‘সার নিতে গেলে আমাদের বলা হচ্ছে–সরকার থেকে আমরা (ডিলার) পাচ্ছি না, এই পাচ্ছি না, ওই পচ্ছি না, সংকট; এ রকম বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করতেছে। আমরা কৃষকরা যাবো কোথায়?’
আরেক কৃষক বলেন, ডিলারের কাছে গিয়ে সার ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, কাগজ-কলমে ভালো মজুতের তথ্য থাকলেও বাস্তবে সারের জন্য কৃষকের এমন হাহাকার। এখন আমনের চারা তৈরি ও রোপণের সময় চলছে। তাই কয়েক ধাপে কৃষককে জমিতে সার দিতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সারের চাহিদা বেশি। বিপরীতে, প্রয়োজন অনুযায়ী সার না মেলার অভিযোগ চাষিদের।
এক কৃষক বলেন, সরকার নির্ধারিত ডিলারের কাছে কাঙ্ক্ষিত সার না পেয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
রংপুরের এক কৃষক বলেন, ‘আমরা যখন সার চাই, তখন বলে–সার নাই ডিলারের কাছে যাও। কিন্তু ডিলারের কাছে গিয়ে তো আমরা সার পাবো না। এই জন্য খুচরা বাজারে সারের সরবরাহ যদি ভালোভাবে থাকত, তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।’
সংকটের জন্য কৃষকেরা ডিলারদের দুষলেও, মানতে নারাজ পরিবেশকেরা। তাদের দাবি, আতঙ্কিত হয়ে বেশি সার কেনা হচ্ছে। জরুরিভিত্তিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।
ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কোথাও কোথাও একটু দাম হচ্ছে। আমি যেটা অনুভব করছি, সেটা হলো–কৃষক মনে করছে সামনে সার পাওয়া যাবে না, সারের হয়তো ডিমান্ড বাড়বে। এই ভেবে কিছু আগাম কিনে রাখার চিন্তা করছে। এই চিন্তায় কৃষক সার বেশি কিনছে বিধায় মার্কেটে কিছু ক্রাইসিস আছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারের ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা, বিতরণ ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘বিএনপি সরকারের এখন উচিৎ হবে সব কাছ বন্ধ রেখে সার সংগ্রহের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা। অলটারনেটিভ সোর্সের দিকে যেতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার আনতে না পারলে চায়নায় যেতে হবে, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য সোর্স থেকে সাপ্লাইটা বাড়াতে হবে। বাজারে যতক্ষণ পর্যন্ত সাপ্লাই না বাড়াবে, আপনি যতই নীতিমালা করেন বাজারে সংকট কমবে না।’
সরকারি হিসাবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারের চাহিদা ১৩ লাখ ২১ হাজার টন। বিপরীতে মজুত রয়েছে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন।



