‘নিঃস্ব করেছ আমায়…’–বেশ বিখ্যাত গান। ব্যান্ডদল মাইলস‑এর এই গান কানে ঢোকার পরপরই এর সুরে সুর, তালে তাল না মেলাতে পারলে ঠিক আরাম পাওয়া যায় না। যদিও দেশের বর্তমান অবস্থায় এটি সাধারণ নাগরিকদের থিম সং না হয়ে যায় কোথায়! যেভাবে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নিঃস্বকরণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে, তাতে আসলে এমন আশঙ্কা থেকেই যায়।
কীভাবে? এই ধরুন, মোবাইলে কথা বলতে বলতে পথে চলছেন। ওমনি এসে এক ছোট বা বড় ভাই (!) আপনাকে কিছু দেখাল, আর মোবাইল নিয়ে গেল। নিতেই পারে। দুনিয়াটাই তো এমন। কারও মাইনাস হয়, কারও প্লাস হয়। অবশ্য একে ছিনতাইও বলা হয়ে থাকে। মানে জোর করে নিজের করে নেওয়া আর কি। তবে বাংলা সিনেমার নায়কের মতো করে নয়, খলনায়কের মতো করে।
যাই হোক। আসল কথা হলো, উপরের ঘটনাগুলো নিয়মিতই এখন ঘটছে। সুতরাং সাবধান থাকাটা খুবই প্রয়োজন। দেশ ও জাতির জন্য না হলেও নিজেদের জন্য তো অবশ্যই। এই লেখায় সেই সাবধানতা বিষয়ক কিছু পরামর্শই দেওয়া হবে, একদম ফ্রি’তে। সয়াবিন তেলে যেমন কোলেস্টরল ফ্রি থাকে, তেমনি সরস‑এর এই লেখাতেও পরামর্শ ফ্রি!
আরও পড়ুন :
চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, নিঃস্ব হওয়া ওরফে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া থেকে বাঁচার কিছু নিনজা টেকনিক।
টেকনিক ১: যদি পেশায় চাকরিজীবী হয়ে থাকেন, তবে অফিসের বড়কর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। পুরুষেরা জানান যে, অফিসে ঢোকা ও বের হওয়ার সময় যেন ড্রেসকোড হিসেবে ছেঁড়া লুঙ্গি ও স্যান্ডো গেঞ্জিকে মেনে নেওয়া হয়। মানে অফিসে ঢোকার সময় এই পোশাকে ঢুকবেন, আবার বের হওয়ার সময় এই পোশাক পরে বের হবেন। মাঝখানে আবার অফিসে রাখা আনুষ্ঠানিক পোশাক পরবেন। নারীরা এ ক্ষেত্রে একদমই আটপৌরে ঘরে পরার সালোয়ার‑কামিজ, শাড়ি বা ম্যাক্সিও বেছে নিতে পারেন। এতে সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটি হবে, তা হলো–আপনাকে কেউ ছিনতাই করার যোগ্য বলেই মনে করবে না। বরং কাপড়চোপড়ের অবস্থা বেশি খারাপ দেখাতে পারলে নেওয়ার বদলে কিছু দিয়ে যেতেও পারে!

টেকনিক ২: খাওয়া‑দাওয়ার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে। খালি পুরোনো ও ছেঁড়া পোশাক পরলেই হবে না। সেটি আপনার বডিতে মানাতেও হবে। পরলেন ছেঁড়া লুঙ্গি, কিন্তু বডি একদম শোয়ার্জনেগারের মতো—তাহলে তো হবে না! বডি হতে হবে অনেক শীর্ণ, রুগ্ন টাইপের। অর্থাৎ, ডায়েট কন্ট্রোল করতে হবে ভালোমতো। এমনিতেও বাজারে চড়া ভাব আছে। সুতরাং, ডায়েট কন্ট্রোল করলে বরং আখেরে লাভই হবে। শরীরও ঠিক থাকল, আবার আপনার ট্যাঁকও নিরাপদ রইল।
আরও পড়ুন :
টেকনিক ৩: পেশায় ব্যবসায়ী হলে জীর্ণ পোশাক পরিধানের পাশাপাশি ভালো ব্যাগ বহন করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে টাকা‑পয়সা বাজারের ব্যাগে নিয়ে বের হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। টাকা‑পয়সা নিচে দিয়ে উপরে কিছু ধনে পাতা, পালংশাক, পটল বা করলা ছড়িয়ে ঢেকে দিতে পারেন। এতে করে প্রতিদিন টাটকা সবজি খাওয়াও হবে, আবার ছিনতাইকারীদের চোখে ধুলো দিতেও পারবেন।
টেকনিক ৪: মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানী হতে হবে। ফেসবুক, হোয়্যাটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইউটিউব–এসব বাসায় এসে দেখার অভ্যাস করুন। বাইরে বের হলে নিন বাটন ফোন। এবং সেটিও হতে হবে বস্তাপচা টাইপের। অর্থাৎ, ফিরিয়ে আনতে হবে আগেকার নকিয়ার যুগ। এমন ফোনসেট নিয়ে বের হতে হবে, যাতে ছিনতাইকারীই তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে হয়তো রাগ করে আপনাকে কিছু কিল‑ঘুঁষি মারতে পারে। ওসব একটু সয়ে নিতে হবে। জানেনই তো, যে সহে সে রহে!
আরও পড়ুন :
টেকনিক ৫: সাথে বেশি টাকা‑পয়সা রাখা যাবে না। প্রয়োজনে শুধু যাতায়াতের ভাড়া নিয়ে বের হতে হবে। আর টাকা বহন করতেই হলে আসল টাকাগুলো ‘গোপন’ স্থানে রেখে দিন। ওয়ালেট বা মানিব্যাগে রাখুন বাচ্চাদের খেলাধুলায় ব্যবহার্য নকল ডলার বা ইউরো বা পাউন্ড। এতে করে বরং ছিনতাই হলেও এক ধরনের প্রতিশোধের আনন্দে মেতে উঠতে পারবেন! বাসায় ফিরতে ফিরতে মনে মনে বলতে পারবেন–‘আইজ বুঝবা না, বুঝবা কাইল, তখন…!’
টেকনিক ৬: বাইরে বের হওয়ার সময় জুতা হিসেবে বাথরুমে ব্যবহার করার দুই ফিতার শ্যাওলা পড়া স্পঞ্জের স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। এতে একদিকে আরামে চটপট চলতেও পারবেন, অন্যদিকে ছিনতাইকারীদের শ্যেনদৃষ্টি থেকেও নিজেকে বাঁচাতে পারবেন। মনে রাখবেন, চাচা আপন পকেট বাঁচা!

টেকনিক ৭: দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ফেলুন, জীবন বদলে যাবে। রাস্তায় নামার পর থেকে পারলে সবাইকে ছিনতাইকারী হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন। একবার বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, এই দুনিয়ায় কে ছিনতাইকারী না? অফিসের বস আপনার ইনক্রিমেন্ট‑প্রমোশন ছিনতাই করতে চায়, ব্যবসায়ীরা আপনার কাছ থেকে নিজেদের লাভ ছিনতাই করে নিতে চায়, রিকশা বা সিএনজিচালকেরা আপনার কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া ছিনতাই করে নিতে চায়! বাকি আর থাকে কী! এভাবে সবাইকে ছিনতাইকারী হিসেবে দেখার অভ্যাস গড়তে পারলে বাকি ৬টি টেকনিক মনেপ্রাণে মেনে চলার অনুপ্রেরণা পাওয়া যাবে। এই অতিসাবধানী দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনি চাইলে হয়তো একটু নিরাপদ থাকতেও পারবেন!
সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে যে, যেসব টেকনিক এই লেখায় আলোচনা করা হলো, সেগুলো সবই আসলে রক্ষণাত্মক। এগুলোয় কোনো ঝুঁকি নেই। জমাট রক্ষণ দিয়ে জার্মানি যেমন ফুটবল মাঠে সব প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়, তেমনি আমরাও এভাবে ছিনতাইকারীদের বিভ্রান্ত করে দিতে পারি। আর এভাবে ছিনতাইকারীদের একেবারে ভাতে মারা যাবে! আর হাতে মারার চেয়ে ভাতে মারাই যে সর্বোত্তম পন্থা, তা কে না জানে!
রম্য থেকে আরও পড়ুন:


যাত্রার বিবেক সাজবেন যেভাবে
বাংলাদেশে ৩২ কোটির রাস্তায় রোদ পোহায় কাক, ইলন মাস্ক তো অবাক!
‘দেখেন, যেটা ভালো মনে করেন!’
