অস্ট্রেলিয়ায় কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন না ধরার বৈধতা পেলেন অধস্তন কর্মীরা। এ নিয়ে দেশটিতে একটি আইন পাস হয়েছে বলে আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদন বলছে, ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট রুল’ পাস হওয়ার ফলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন বা মেসেজের উত্তর না দিলেও চলবে। এতে স্বস্তি মিলেছে অনেকের।
কর্মীদের ফোনকল ও ক্ষুদে বার্তা দিয়ে নানা কাজ বাতলে দেন অনেক বস। এসব অপেশাদার আচরণ সারা বিশ্বেই চর্চিত হতে দেখা যায়। তবে অস্ট্রেলিয়ায় আইন হওয়ায় অযৌক্তিক এ যন্ত্রণা থেকে অধস্তন কর্মীরা মুক্তি পেলেন।
বিবিসি লিখেছে, অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর কেউ চাইলে তাঁর বসের ফোন না ধরলেও পারবেন। তাঁকে কোনো শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে না।
গত বছর প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ানরা বছরে গড়ে ২৮১ ঘন্টা বিনাবেতনে ওভারটাইম করেন। পাস হওয়া নতুন আইনটি অবশ্য নিয়োগকর্তাদের অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে বাধা দেবে না। কিন্তু কর্মীদের ফোন না ধরা বা মেসেজের উত্তর না দেওয়ার অধিকার দেবে।
প্রতিবেদন বলছে, নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীদের নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ হলে তা মেটানোর চেষ্টা করতে হবে। যদি সমাধান না খুঁজে পাওয়ায় যায়, তবে বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন পদক্ষেপ নিতে পারবে।
আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হলে একজন কর্মচারীর জন্য ১৯ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আর কোম্পানিকে গুনতে হতে পারে ৯৪ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা। শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এরআগে গত ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পর বসের অযৌক্তিক ফোনকল ও মেসেজ উপেক্ষা করার অনুমতি দিয়ে আইন পাস করার উদ্যোগ নেয় অস্ট্রেলিয়া।
ওই সময় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, এ আইন অমান্য করে নিয়োগকর্তারা যদি কর্মীদের ফোনকল করেন, তবে তাদের জরিমানা করা হবে। আর কর্মীরা যদি বসের ফোনকল না ধরেন, সে ক্ষেত্রে কর্মীদের কোনো জরিমানা দেওয়ার বিধান থাকবে না এ আইনে।
সরকার বলছে, আইনটির ফলে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই ধরনের আইন ফ্রান্স, স্পেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে।



