অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড সফলভাবে তাদের কার্যক্রমের প্রথম বছর সম্পন্ন করেছে। এ উপলক্ষে গত ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হয় সংস্থাটির প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং তৃতীয় পরিচালনা পর্ষদ সভা। ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুশাসন, কৌশলগত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ অনুমোদন করা হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধনের পর থেকে ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনাল শক্তিশালী সাংগঠনিক সুশাসন কাঠামো গড়ে তোলা, কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিশ্বব্যাপী ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচনী কর্তৃত্বের শাসন রক্ষার আন্তর্জাতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে আসছে।
প্রতিবেদনকালীন সংস্থাটির দুটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো—‘নির্বাচনী জালিয়াতিকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করার বৈশ্বিক মডেল আইন’ চালু করা এবং কর্মসূচির উন্নয়ন, যা বর্তমানে সংস্থার প্রধান বৈশ্বিক গবেষণা উদ্যোগ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে।
পিইটিআরআই এমন একটি কাঠামো, যার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংঘটিত নির্বাচনী জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য রাষ্ট্রদ্রোহ ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এর মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ঝুঁকি নির্ধারণের মানদণ্ড ‘নির্বাচনী জালিয়াতিকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করার বৈশ্বিক মডেল আইন’-এর নীতি ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে পিইটিআরআই চালু করা হয়। এতে ২০২৫ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০টি নির্বাহী নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলোর সম্ভাব্য রাষ্ট্রদ্রোহ ঝুঁকির সূচকভিত্তিক র্যাংকিংসহ পাইলট পিইটিআরআই প্রতিবেদন ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিচালনা পর্ষদ সভায় পিইটিআরআই কর্মসূচির কার্যপরিধি সংস্করণ ১.০ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয় এবং কর্মসূচিটির ধারাবাহিক উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে পিইটিআরআই কর্মসূচির পরিচালক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ‘নির্বাচনী জালিয়াতিকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করার বৈশ্বিক মডেল আইন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিষয়টিও সভায় উল্লেখ করা হয়। এই মডেল আইন নির্বাচনী জালিয়াতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনালের বৃহত্তর প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ।
প্রতিবেদনকালীন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির অনুমোদন লাভ। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার প্ল্যাটফর্মে ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্বেচ্ছাসেবক ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ প্রচার করতে পারবে।
এজিএমে সংস্থার কার্যক্রম, সুশাসন উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক সম্পৃক্ততা, আর্থিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সদস্যরা সংস্থার আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত পরিচালকদের পুনর্নির্বাচিত করেন।
প্রতিবেদনকালীন সময়ে ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনাল তাদের স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে ২০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন এবং কর্মসূচি সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপদেষ্টা নিয়োগ, বিভিন্ন দেশে ভবিষ্যৎ শাখা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা এবং বৈশ্বিক সুশাসন ও গবেষণা কাঠামো উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ভবিষ্যতে ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনাল যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবে, সেগুলো হলো—সুশাসন ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা; আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধি; গবেষণা ও বিশ্লেষণ সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়নের সুযোগ অনুসন্ধান।
সংস্থার চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান প্রতিষ্ঠাবর্ষে অবদানের জন্য পরিচালনা পর্ষদ, স্বেচ্ছাসেবক, সদস্য, উপদেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনাল সফলভাবে তার প্রতিষ্ঠাকালীন ধাপ সম্পন্ন করেছে এবং এখন কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচি উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। পিইটিআরআই উদ্যোগ আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যদি সামরিক অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনী জালিয়াতিকে কেন সাধারণ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে? উভয় ক্ষেত্রেই জনগণের সরকার নির্বাচনের অধিকারকে অগ্রাহ্য করে কে সরকার গঠন করবে তা নির্ধারণ করা হয়। সে কারণে নির্বাচনী জালিয়াতিকেও সর্বোচ্চ আইনি শাস্তিযোগ্য রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটগার্ড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বাস করে, বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আরও গভীর আইনি, একাডেমিক এবং জনপরিসরের আলোচনার দাবি রাখে।’



