একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প—দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বারবার কাঁপছে ভূখণ্ড। ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়ার বড় মাত্রার ভূমিকম্পে বাড়ছে উদ্বেগ। ঝুঁকিতে কোটি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল 'রিং অব ফায়ার' প্রসঙ্গ।
২৪ জুন ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এর দুই মাস না পেরোতেই ১০ আগস্ট ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে পাশের দেশ কলম্বিয়ায়। দুই ভূমিকম্পে ব্যাপক হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি ও বাস্তুচ্যুতির খবর মেলে।
সম্প্রতি ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ইন্দোনেশিয়া। পরপর বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনায় আবারও সামনে আসছে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল—রিং অব ফায়ার।
প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা বিশাল এই ভূ-অঞ্চলটি পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক এলাকা। এখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও নড়াচড়ার কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ইন্দোনেশিয়া সরাসরি রিং অব ফায়ারের অংশ। দেশটি কয়েকটি সক্রিয় প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত। এ কারণে দেশটিতে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়।
তবে কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ারের মূল বেল্টের অংশ নয়।
কলম্বিয়া অবশ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূ-সক্রিয় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত। নাজকা প্লেট দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের নিচে ঢুকে যাওয়ার কারণে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি। ভেনেজুয়েলাও ক্যারিবিয়ান প্লেট ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সীমানার কাছে থাকায় ভূমিকম্পপ্রবণ।
রিং অব ফায়ারে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও জাপান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশ, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ সীমানা ভূমিকম্পের চরম ঝুঁকিতে থাকে।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বড় ভূমিকম্প শুধু রিং অব ফায়ারেই সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবীর যেসব এলাকায় টেকটোনিক প্লেটের সীমানা রয়েছে, সেসব স্থানেও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকে।



