সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে একটি ক্যাফেকে লক্ষ্য করে গাড়ি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে হামলার সময় টেলিভিশনে ইউরো কাপের ফাইনালে স্পেন বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার খেলা দেখছিল বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী। এ ঘটনা এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ২০ জন। আল–কায়দার মদদপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী আল–শাবাব এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। খবর আল–জাজিরার।
জঙ্গি গোষ্ঠী আল–শাবাব বেতারে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, বোমা হামলাটি এমন একটি জায়গাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে যেখানে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী ও নিরাপত্তারক্ষীরা রাতে আড্ডা দিত।
দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, এ ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছে। যদিও রোববার মৃতের সংখ্যা ৫ জন বলা হয়েছিল। নিহত ৯ জনই বেসামরিক লোক। এতে আহত হয়েছে আরও ২০ জন।
ইউসুফ বলেন, ‘রেস্তোরাঁর ভেতরে অনেক লোক ছিল, যাদের বেশিরভাগই যুবক, যারা ফুটবল ম্যাচ দেখছিল… কিন্তু ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তাদের বেশিরভাগই সিঁড়ি ব্যবহার করে উপরে উঠে এবং পেছনের দেয়াল লাফিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছিল।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, রোববার শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় ওই রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণের ফলে রাতের আকাশে বিশাল আগুনের গোলা এবং ধোঁয়ার ঢেউ উড়ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাদ বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং এএফপিকে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কিছু মরদেহ পাওয়া গেছে।
বোমাটি ১০টি গাড়ি ধ্বংস করেছে এবং রাষ্ট্রপতির ভবনের কাছে একটি সুরক্ষিত এলাকায় কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সরকারি বাহিনী এবং সরকারের মিত্রদের কাছে বিশাল এলাকা হারানো সত্ত্বেও আল-শাবাব সরকারকে লক্ষ্য করে প্রায়ই অভিযান এবং মারাত্মক হামলা চালায়। আল-শাবাব গত প্রায় ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে সোমলিয়ার সরকারকে পতনের জন্য লড়াই করছে। রাজধানী মোগাদিসুসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বোমা হামলা ও অন্যান্য হামলা চালিয়েছে।
সোমালিয়ার ফেডারেল সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য অনেকটা বিদেশি সেনাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে।



